ইরান-মার্কিন যুদ্ধ

ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে, সমঝোতা ছাড়াই ‘দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা’র আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৪ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক/ ছবি: এপি-ইউএনবি

পুনরায় যুদ্ধ শুরু কিংবা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় (স্টেলমেট) জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড-এর ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছ।।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো সমাধান শিগগির আসবে না বলে আশঙ্কা বাড়ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে বড় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হতে পারে এবং ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে হতে পারে। একই সময়ে উভয় পক্ষ একে অপরের পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। দুই পক্ষই অপেক্ষা করবে কে আগে পদক্ষেপ নেয় বা দুর্বলতা দেখায়।

একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জমে থাকা এ সংঘাত (ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট) রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের-এর জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির তৈরি করবে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর নির্ধারিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন অবস্থা ট্রাম্পের জন্য বড় ধরণের বিপর্যয় আনতে পারে।

ট্রাম্পের উপদেষ্টারা জানান, নতুন হামলা চালানো বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা- এই দুটি সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনটি গ্রহণ করবেন তা নিয়ে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছাড় দিতে বাধ্য করা যেতে পারে।

এক উপদেষ্টা বলেন, ট্রাম্পের মতে ইরানের নেতৃত্ব শুধু শক্তির ভাষাই বোঝে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে হতাশ কিন্তু বাস্তববাদী বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়াও বেশ কঠিন।

খবরে আরও বলা হয়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ইরানের নতুন আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। ৭ এপ্রিল ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর প্রেক্ষিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দফা আলোচনা করে, তবে বিভিন্ন মতপার্থক্যের কারণে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর প্রেক্ষিতে ১৩ এপ্রিল ইরানের হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেন ট্রাম্প।

এরপর ২১ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও ইরান জানায়, তারা একতরফা এই সিদ্ধান্ত মানবে না এবং নিজেদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।