হরমুজের অচলাবস্থা, চাহিদা-জোগানের ভারসাম্য রক্ষায় ওপেক ছেড়েছে আমিরাত
সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আমিরাত। দেশটির এ সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা। হরমুজ ছাড়া আরও কিছু প্রভাবের কারণে ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সংবাদ মাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, আমিরাতের এ সিদ্ধান্তে ইরান-মার্কিন সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী সুহেইল মোহাম্মদ আল-মাজরোউই।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুহেইল মোহাম্মদ বলেন, সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বিবেচনায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বে তেল ও জ্বালানি পণ্যের প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ায় নতুন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এর আগে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য তারা এখনো সমর্থন করে বলেও জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আমিরাতের তেল উৎপাদন নীতি বৈশ্বিক সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে।
ওপেক হচ্ছে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা। ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৬০ সালে বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত ওপেকের প্রথম সদস্য ছিল পাঁচটি দেশ। এই দেশগুলো হচ্ছে-ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব এবং ভেনেজুয়েলা। তবে এর বর্তমান সদস্য মোট ১২টি দেশ। ১৯৬৫ সাল থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় এর সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে অস্ট্রিয়া ওপেক সদস্যভুক্ত দেশ নয়।
সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত, ১২টি সদস্য দেশ বিশ্বব্যাপী তেল উৎপাদনের আনুমানিক ৪৪ শতাংশ এবং বিশ্বের প্রমাণিত তেলের রিজার্ভের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশের মত সংগ্রহে ছিল। ফলে ওপেক বিশ্বব্যাপী তেলের দামের ওপর একটি বড় প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছিল।
১ জানুয়ারি ২০১৯ এ কাতার এবং ১ জানুয়ারি ২০২০ সালে ইকুয়েডর এবং ১ জানুয়ারি ২০২৪ সালে এঙ্গোলা সংস্থাটির সদস্য পদ ত্যাগ করে।
কেএম