যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম চার বছরে সর্বোচ্চে, গ্যালনপ্রতি ৪.১৮ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৪.১৮ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১৩ টাকা। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪.১৫ ডলার ছাড়িয়েছিল। সে সময় রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পরপরই তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। বর্তমানে গ্যাসের গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় ১ ডলার বেশি। তখন এই দাম ছিল প্রায় ৩.১৫ ডলার প্রতি গ্যালন।
যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যভেদে গ্যাসের দামে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। যেসব অঙ্গরাজ্যে তেল উৎপাদন হয়, সেখানে গ্যাসের দাম আমদানিনির্ভর অঙ্গরাজ্যের তুলনায় প্রতি গ্যালনে প্রায় ২ ডলার পর্যন্ত কম। টেক্সাসে গ্যাসের দাম গড়ে ৩.৭২ ডলার, আর ক্যালিফোর্নিয়াতে তা গড়ে ৫.৯৬ ডলার প্রতি গ্যালন।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (২৯ এপ্রিল) বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারে পৌঁছায়। যদিও গত মাসে এটি ১১৯ ডলারে উঠেছিল, তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এটি প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল।
এদিন তেলের দাম আরও বেড়ে যায়, কারণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে খবর আসে। এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ পরিবহন করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৭ এপ্রিল) তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট নন। ওই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিজস্ব নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে ও এতে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ইরানের নেতারা তাকে জানিয়েছেন যে দেশটি ‘ধসে পড়ার অবস্থায়’ রয়েছে ও তারা ‘যত দ্রুত সম্ভব’ হরমুজ প্রণালি খুলতে চায়, একই সঙ্গে তারা তাদের নেতৃত্ব পরিস্থিতি নির্ধারণের চেষ্টা করছে, যা তিনি মনে করেন তারা করতে সক্ষম হবে।
একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দেয় যে তারা ওপেক জোট ত্যাগ করবে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে রপ্তানি চালু রাখতে এই জোটটি হিমশিম খাচ্ছিল। এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওপেককে তেলের দাম বাড়াতে যোগসাজশের মাধ্যমে ‘বিশ্বের বাকি অংশকে ঠকানোর’ অভিযোগ করে আসছেন।
উচ্চ তেলের দাম পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোর জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিদ্বন্দ্বীরা যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। বিপি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩.২ বিলিয়ন বা ৩২০ কোটি ডলারে (২.৪ বিলিয়ন বা ২৪০ কোটি পাউন্ড) পৌঁছেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এসএএইচ