বঙ্গোপসাগরের আকাশে ভারতের বিধিনিষেধ, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে জল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ০৮ মে ২০২৬
ভারতের পুদুচেরিতে বঙ্গোপসাগরের ওপর সূর্যোদয়/ ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারিতে তোলা ছবি/ এএফপি

বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বিধিনিষেধ জারি করেছে ভারত। দেশটি ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (নোটাম) জারি করে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর জেরে ভারতের সম্ভাব্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা এমন একটি করিডোরজুড়ে কার্যকর করা হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার। করিডোরটি উড়িষ্যা উপকূলের আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে বিস্তৃত। এই দ্বীপটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য পরিচিত উৎক্ষেপণ কেন্দ্র।

নোটাম জারির সময়টি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কারণ এর কয়েকদিন আগেই ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিওর চেয়ারম্যান সামির ভি কামাথ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ভারতের প্রথম আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এখন শুধু সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে।

যদিও এখন পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও এই পদক্ষেপ বড় ধরনের কৌশলগত অস্ত্র পরীক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এরই মধ্যে বুধবার (৬ মে) ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘অগ্নি-৬’-এর প্রসঙ্গ টেনে আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে।

বিজেপির পোস্টে বলা হয়, ‘অগ্নি-৬: পরাশক্তি হওয়ার পথে ভারত! ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি আঘাত হানার ক্ষমতা ও এমআইআরভি প্রযুক্তিসহ অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নিরাপত্তাকে দুর্ভেদ্য করে তুলবে ও দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর কাতারে নিয়ে যাবে। শক্তিশালী ভারত, নিরাপদ ভারত!’

পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করে বিজেপি। সেখানে বলা হয়, বর্তমানে মাত্র পাঁচটি দেশের আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে। দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। ভিডিওতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, ভারতও এখন সেই তালিকায় যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ভিডিওতে আরও বলা হয়, অগ্নি-৬ হলো ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র। এর দীর্ঘপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতার মাধ্যমে ভারতের প্রভাব শুধু আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আরও বৈশ্বিক হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রে এমআইআরভি (মাল্টিপল ইনডিপেনডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল) প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে ও আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটির কৌশলগত সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।

এদিকে, সম্প্রতি ভারত দীর্ঘপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘এলআর-এএসএইচএম’-এরও পরীক্ষা চালিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি এবং এর সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ১০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ভারতের উচ্চমানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের ধারাবাহিক অগ্রগতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।