শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বৌদ্ধ ভিক্ষু গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ০৯ মে ২০২৬
শ্রীলঙ্কার পুলিশ/ ফাইল ছবি: এএফপি

শ্রীলঙ্কায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একজন প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

৭১ বছর বয়সী পল্লেগামা হেমারাথানাকে শনিবার (৯ মে) রাজধানী কলম্বোর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি তদন্তের মধ্যেই তিনি চিকিৎসার জন্য সেখানে ভর্তি হয়েছিলেন।

কলম্বোর প্রধান ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হেমারাথানার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালে অনুরাধাপুরার একটি বৌদ্ধ মন্দিরে ওই শিশুকে যৌন নির্যাতন করেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিক্ষুকে সহযোগিতা করার অভিযোগে শিশুটির মাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আমরা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবো।

এর আগে হেমারাথানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। শিশুসুরক্ষা কর্তৃপক্ষ তার গ্রেফতারে বিলম্বতা নিয়ে অভিযোগ তোলার পর অনুরাধাপুরার প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট তাকে আটক করার নির্দেশ দেন। আদালত পুলিশকে বিলম্ব না করে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়।

কলম্বোতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হেমারাথানা গুরুত্বপূর্ণ আটটি বৌদ্ধ মন্দিরের প্রধান হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া তিনি এমন একটি পবিত্র বৃক্ষেরও প্রধান তত্ত্বাবধায়ক, যা ভারতের বোধিবৃক্ষের চারা থেকে জন্মেছে বলে বিশ্বাস করা হয়—যে বৃক্ষের নিচে গৌতম বুদ্ধ আড়াই হাজার বছরের বেশি আগে জ্ঞান লাভ করেছিলেন।

শ্রীলঙ্কায় অতীতেও ধর্মীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এত উচ্চপদস্থ কোনো বৌদ্ধ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম বড় আকারে সামনে এলো।

এদিকে গত মাসে কলম্বোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১০ কেজি গাঁজা বহনের অভিযোগে ২২ জন ভিক্ষুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এটিকে বিমানবন্দরটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাদক পাচার চক্রের ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।