ট্রাম্পের চীন সফরে সঙ্গী হলেন যেসব শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ীরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে তার সঙ্গে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোট ১৭ জন মার্কিন ব্যবসায়ী ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে বেইজিং যাচ্ছেন।
এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক, ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিংকসহ মেটা, ভিসা, জেপি মরগান, বোয়িং ও কারগিলের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে তালিকায় শুরুতে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াংয়ের নাম ছিল না। চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতায় এনভিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরে এক চমকপ্রদ ঘটনায় দেখা যায়, আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে জ্বালানি নেওয়ার সময় জেনসেন হুয়াং বেইজিংগামী এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠেছেন।
এনভিডিয়ার এক মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে জেনসেন এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন, যাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও প্রশাসনের লক্ষ্যকে সমর্থন করতে পারেন।
এছাড়া মাইক্রন টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় মেহরোত্রার উপস্থিতিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৩ সালে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে মাইক্রনের কিছু চিপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়, যা কোম্পানিটির ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ খাত এখনও যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সিসকোর প্রধান নির্বাহী চাক রবিনসও সফরে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, তবে কোম্পানির আয়সংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে তিনি যোগ দিতে পারছেন না বলে জানানো হয়েছে।
সফরে অংশ নেওয়া নির্বাহীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভোক্তা প্রযুক্তি, চিপ নির্মাণ ও শিল্প উৎপাদনসহ মার্কিন ব্যবসার বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানি ইলুমিনার এক মুখপাত্র বলেন, তাদের প্রধান নির্বাহী থাইসেন প্রতিনিধিদলের অংশ হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছেন এবং এই সফরকে সম্পর্ক জোরদার ও প্রিসিশন মেডিসিনের ভবিষ্যৎ গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
প্রায় এক দশকের মধ্যে এটি হবে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। একইসঙ্গে এটি দুই দেশের ভঙ্গুর বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এর আগে শুল্কযুদ্ধের সময় দুই দেশ একে অপরের ওপর ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর সেই শুল্ক স্থগিত করা হয়।
আসন্ন বৈঠকে ইরান যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্প চান, সস্তা ইরানি তেলের বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
চীনও এই সংঘাতের অবসান চায়। কারণ যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে প্রভাব পড়ায় বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, যা চীনা পণ্যের ক্রয়ক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
তবে বিশাল তেল মজুত ও বহুমুখী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে চীন এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের প্রভাব তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সামাল দিতে পেরেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম