হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা চরমে
জিব্রাল্টার প্রণালিতে ভেসে উঠলো মার্কিন ‘বুমার’ সাবমেরিন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পুনরায় সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়ছে। সর্বশেষ নতুন কোনো আলোচনা শুরু করতে পাঁচটি শর্তকে ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরান। তেহরানের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে এই পাঁচটি শর্ত মেনে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসতে হবে।
ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার তথ্য মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটকালীন এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নিউক্লিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনের উপস্থিতি জানান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জিব্রাল্টারে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ওহাইও-শ্রেণির সাবমেরিনের প্রকাশ্য উপস্থিতি কৌশলগত বার্তাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিনের উপস্থিতি জিব্রাল্টার প্রণালিকে বিশ্ব রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে তুলে এনেছে।
এদিকে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সতর্ক করে ট্রাম্প জানান, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি ‘ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। ইরানের পাঁচ শর্তের প্রস্তাব প্রত্যাখানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সাবমেরিন মোতায়েনের তথ্য জানায় পেন্টাগন। এতে হরমুজ প্রণালিতে ভিন্নমাত্রায় উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পরাশক্তিগুলো সাধারণত সাবমেরিন চলাচলের তথ্য গোপন রাখে। তবে এবারের ইরান-মার্কিন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাগরের উপরিভাগে সাবমেরিনের এমন দৃশ্যায়নকে সুস্পষ্ট ভূরাজনৈতিক বার্তায় পরিণত করেছে।
এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার করা। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন নিয়ে স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা বেগবান করা।
ওহাইও-শ্রেণির সাবমেরিন:
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক, সামুদ্রিক নজরদারি পর্যবেক্ষক এবং জিব্রাল্টারের স্থানীয় সূত্রগুলো প্রাথমিকভাবে সাবমেরিনটিকে ইউএসএস আলাস্কা (এসএসবিএন-৭৩২) হিসেবে শনাক্ত করেছে। এটি একটি ওহাইও-শ্রেণির পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন। এই ধরনের সাবমেরিন সর্বোচ্চ ২৪টি ট্রাইডেন্ট–২ ডি৫ উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এবং সেগুলোতে পারমাণবিক ওয়ারহেড স্থাপন করা যায়।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সাবমেরিন মোতায়েন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাড়তি নজর কেড়েছে। এর মূল কারণ ওহাইও-শ্রেণির ‘বুমার’ সাবমেরিনগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে টেকসই মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এগুলো দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ গোপনে পরিচালিত হয় এবং কৌশলগত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিশ্চিত পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা বজায় রাখে।
মার্কিন ষষ্ঠ নৌবহর জানিয়েছে, এই বন্দর সফর ‘সামর্থ্য, নমনীয়তা এবং ন্যাটো মিত্রদের প্রতি অব্যাহত অঙ্গীকার প্রদর্শন করে।’
এই কৌশলগত তথ্য প্রকাশ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর কারণ ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত ঘিরে আলোচনা সরাসরি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২২ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সামরিক পর্যবেক্ষকরা এ সাবমেরিন মোতায়েনকে উত্তেজনা বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে দেখছেন। এর লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরে সরাসরি উচ্চমূল্যের মার্কিন নৌ-সম্পদ মোতায়েন না করেই তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়ানোে।
কেএম