ইরানে ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার অক্ষত: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৪ পিএম, ১৩ মে ২০২৬
ছবি: প্রেস টিভি

মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি ‘ধ্বংস হয়ে গেছে’ বলে একাধিকবার দাবি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে, মার্কিন গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরানের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে। বুধবার (১৩ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়ে, মে মাসের শুরুর দিকে মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টটি প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইরান তার অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় আবারও কার্যক্রম চালুর সক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বরাবর অবস্থিত ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টি আবার সক্রিয় হয়েছে।

এ গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা সর্বশেষ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে ইরানের যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও মোবাইল লঞ্চার ছিল তার প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, দেশজুড়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ এখন ‘আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর’ অবস্থায় রয়েছে।

কিন্তু গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে আসা এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলভিয়া ওয়ালেস। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি তার সামরিক সক্ষমতার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার ধারণা সঠিক নয়।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ওয়েলস বলেন, ইরান বুঝতে পারছে যে তাদের ‘বর্তমান বাস্তবতা টেকসই নয়।’

তিনি আরও বলেন, ইরান তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে বলে যদি কেউ মনে করে তবে সে বিভ্রান্ত নয়তো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র।

পুরো সংঘাতজুড়ে ধারাবাহিকভাবে হামলার ব্যাপকতা ও ইরানের সামরিক শক্তির ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময় বড় বড় দাবি করে গেছেন ট্রাম্প। তবে বাস্তবে ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায়। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়সূচক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

গত মাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বিমান বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মৌসাভি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান যে হারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চার পুনরায় প্রস্তুত করেছে তা যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়েও বেশি।

গত শনিবার মুসাভি আরও বলেন, ইরানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ ড্রোনগুলো পারস্য উপসাগর অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও শত্রু জাহাজের দিকে পুরোপুরি তাক করা রয়েছে। সামরিক বাহিনী চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত আছে।

উল্লেখ্য, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

ইরানের তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনের যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হয়।

কেএম 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।