ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তুলকালাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৩৯ পিএম, ১৩ মে ২০২৬
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর প্রকাশের পর দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অনুষ্ঠিত নিট ইউজি ২০২৬ নামের পরীক্ষাটি বাতিল করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। জানা গেছে, এই কেলেঙ্কারির শুরু মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে, যেখানে প্রথম প্রশ্নপত্রের ডিজিটাল কপি পাওয়া যায়।

জানা গেছে, নাসিকের বাসিন্দা শুভম খৈরনারকে প্রশ্নপত্র কিনে পরে তা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে আটক করেছে সিবিআই। তিনি নাকি পুনের এক সন্দেহভাজনের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র কিনে ৫ লাখ রুপি লাভে তা বিক্রি করেন।

মহারাষ্ট্রের পর প্রশ্নপত্রটি হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর ও সিকার, জম্মু-কাশ্মীর, বিহার এবং কেরালাসহ আরও কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।

নাসিকের ইন্দিরানগর এলাকার ৩০ বছর বয়সী শুভম খৈরনার আয়ুর্বেদিক মেডিসিন ও সার্জারির (বিএএমএস) ছাত্র। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুনের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লাখ রুপিতে প্রশ্নপত্র কিনে হরিয়ানার এক ক্রেতার কাছে ১৫ লাখ রুপিতে বিক্রি করেন এবং ৫ লাখ রুপি লাভ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্রটি এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে শুভমকে আটক করে সিবিআই। তখন তিনি একটি মন্দিরে প্রার্থনা করতে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা বলেন, ধরা এড়াতে তিনি চুল কেটে নিজের চেহারা বদলেছিলেন। তবে পুরোনো ছবির সঙ্গে মিলিয়ে এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়।

স্থানীয় অপরাধ দমন শাখা (এলসিবি) তাকে আটক করার পর তার বাবা মধুকর খৈরনার অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলেন। তার দাবি, শুভমের সঙ্গে প্রশ্নফাঁস চক্রের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তিনি এটাও বলেন, যদি তদন্তে তার ছেলের নাম উঠে থাকে, তাহলে সত্য বের করতে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

আরও জানা গেছে, প্রশ্নফাঁসে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল পোর্টেবল স্ক্যানার, জটিল টেলিগ্রাম নেটওয়ার্ক এবং শ্যাডো সার্ভার।

পরীক্ষার প্রায় ৪৫ ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র ছড়ানো হচ্ছিল। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে যখন কেরালায় পড়াশোনা করা সিকারের এক ছাত্র একটি গেস পেপার-এর পিডিএফ তার বাবাকে পাঠায়। তার বাবা সিকারে একটি পিজি হোস্টেল পরিচালনা করেন।

পরীক্ষার দিন সকালে তিনি সেই প্রশ্নপত্রটি হোস্টেলে থাকা মেয়েদের দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা তখন পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে গিয়েছিল। পরীক্ষা শেষে কেমিস্ট্রি ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষকদের প্রশ্নপত্রটি দেখানো হলে তারা দেখতে পান, কেমিস্ট্রির ১০৮টির মধ্যে ৪৫টি এবং জীববিজ্ঞানের ২০৪টির মধ্যে ৯০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার সঙ্গে মিলে গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, সিকারের কিছু কোচিং সেন্টার নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এই গেস পেপার দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলেছিল। কেউ পিডিএফ কপি পেয়েছিল, আবার কেউ হাতে ছাপা কপি পেয়েছিল।

শিক্ষকরা প্রথমে অভিযোগ দায়ের করতে চাইলেও সিকার পুলিশ নাকি তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তারা এনটিএকে ইমেইল করেন। এরপর এনটিএ বিষয়টি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আইবিকে জানায়। আইবি পরে রাজস্থানের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপকে (এসওজি) তদন্তের নির্দেশ দেয়।

৮ মে এসওজি সিকারে এমন কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করে যারা জয়পুর থেকে প্রশ্নপত্র কিনেছিল। পরে তদন্তের সূত্র হরিয়ানা ও নাসিক পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

এ পর্যন্ত রাজস্থানের বিশেষ বাহিনী এই ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে মনীশ যাদব ও রাকেশ মান্ডওয়ারিয়াকে মূল হোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

রাকেশ মান্ডওয়ারিয়ার সিকারের একটি কনসালটেন্সি সেন্টারের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।