ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরই বেইজিংয়ে পুতিন: কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ১৯ মে ২০২৬
ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং/ ছবি: এএফপি (ফাইল)

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার (১৯ মে) বেইজিং সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের উদ্দেশ্য ২০০১ সালের গুড-নেইবারলিনেস অ্যান্ড ফ্রেন্ডলি কোঅপারেশন চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি।

বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের ঠিক পরপরই পুতিনের বেইজিং যাত্রা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকে তাইওয়ান ও ইরান যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বড় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় রাশিয়া আশ্বস্ত হয়েছে যে চীন এখনো মস্কোর কৌশলগত অংশীদারত্ব থেকে সরে আসছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়োপযোগী সফরের মাধ্যমে বেইজিং দেখাতে চাইছে যে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গেও সমানতালে সম্পর্ক বজায় রেখে চীন এখন বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রীয় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে।

‘চীনেরই হাতে সব কার্ড’

লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষক মারিনা মিরন বলেন, এই সফরে বড় কোনো নাটকীয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, বরং রাশিয়া-চীনের বিদ্যমান কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

তার মতে, দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় ও জ্বালানি খাতে যৌথ প্রকল্প এগিয়ে নেবে। বিশেষ করে চীন রাশিয়ার জ্বালানি কম দামে পেতে আগ্রহী, আর রাশিয়া ড্রোন উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক টিমোথি অ্যাশ বলেন, এই বৈঠক শি জিনপিংয়ের চেয়ে পুতিনের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া এখন অনেকটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল জুনিয়র পার্টনারে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে ট্রাম্প চীনের কাছে সমঝোতার আশায় গিয়েছিলেন, পুতিনও অনেকটা একইভাবে যাচ্ছেন। এখন সব কার্ড চীনের হাতেই।

তবে ক্রাইসিস গ্রুপের রাশিয়া বিশ্লেষক ওলেগ ইগ্নাতভ বলেন, সম্পর্কটি শুধু ‘উপর-নিচ’ কাঠামোতে দেখা ঠিক হবে না। তার ভাষায়, রাশিয়া ও চীন উভয়েই বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো একক শক্তির আধিপত্য থাকবে না।

ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক কূটনীতি

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধও এই বৈঠকের বড় প্রেক্ষাপট। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা চীনের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

স্বল্পমেয়াদে রাশিয়া লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদে মস্কো ও বেইজিং—দুই দেশই যুদ্ধের অবসান চায়। একই সঙ্গে তারা ইরানের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কও বজায় রাখছে।

বিশ্লেষক অ্যাশ বলেন, চীন ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধ বন্ধে যে সহযোগিতা দিতে পারেনি, তাতে মস্কো সন্তুষ্ট। কারণ এতে স্পষ্ট হয়েছে যে বেইজিং তেহরান বা মস্কো—কাউকেই ছেড়ে যাচ্ছে না।

‘নিরপেক্ষ সুপারপাওয়ার’ হিসেবে চীনের অবস্থান

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও পুতিন—দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির নেতাকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বেইজিংয়ে স্বাগত জানিয়ে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে।

মারিনা মিরন বলেন, চীন নিজেকে এমন এক নিরপেক্ষ শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যে সবার সঙ্গে কথা বলতে পারে এবং কোনো পক্ষের অধীন নয়।

তার মতে, বাস্তবে চীন রাশিয়ার কাছাকাছি হলেও কূটনৈতিকভাবে তারা নিজেদের ‘নিরপেক্ষ সুপারপাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, এ সফর হয়তো বড় কোনো চুক্তি আনবে না, কিন্তু এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বর্তমান বিভক্ত বিশ্ব রাজনীতিতে চীনকে উপেক্ষা করা এখন আর সম্ভব নয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।