ভিসামুক্ত থাকার মেয়াদ কমাচ্ছে থাইল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ১৯ মে ২০২৬
ফুকেট, থাইল্যান্ড/ ছবি: এএফপি (ফাইল)

বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত থাকার মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ৯০টির বেশি দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৬০ দিন থাইল্যান্ডে থাকতে পারেন। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধিকাংশ দেশের নাগরিকদের জন্য এই মেয়াদ কমিয়ে ৩০ দিন করা হবে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে তা আরও কমিয়ে ১৫ দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে।

থাইল্যান্ডের পর্যটনমন্ত্রী বলেন, দেশভেদে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে এবং পর্যটকরা চাইলে একবার ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে থাকার মেয়াদ নবায়নের আবেদন করতে পারবেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত সময়ের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পর্যটকদের কাছ থেকে দীর্ঘ সময় থাকার কারণ জানতে চাইবেন।

গত কয়েক মাসে থাইল্যান্ডে বিদেশিদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, মানবপাচার, অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা এবং অনুমতি ছাড়া হোটেল ও স্কুল চালানোর মতো একাধিক আলোচিত ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে অনেক বিদেশি নাগরিক।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন পদক্ষেপটি মূলত আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনের অংশ।

তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করা হচ্ছে না। বরং যারা ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার করে অপরাধে জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই উদ্দেশ্য।

সরকারি মুখপাত্র বলেন, বিদেশি পর্যটকরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বর্তমান ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

পর্যটন খাত থাইল্যান্ডের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। তবে করোনা মহামারির পর এখনো দেশটির পর্যটন পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত পর্যটকের সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।

তবুও থাইল্যান্ড সরকার আশা করছে, চলতি বছর প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ বিদেশি পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করবেন, যা গত বছরের প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ পর্যটকের চেয়ে সামান্য বেশি।

সূত্র: এএফপি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।