সিবিআই-এর নজরে এবার মমতার আঁকা ছবি!
নিজের আঁকা ছবি নিয়ে এবার ঘোরতর বিপাকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তৃণমূলের যাবতীয় আয় নিয়ে জানতে চাইল ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বিক্রির পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, চাঁদা বাবদ কত আয় হয়েছে তার হিসেব সংক্রান্ত নথিও চাইল সিবিআই।
সূত্র জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ তৃণমূলের সাবেক সর্বভারতীয় সম্পাদক মুকুল রায়কে সিবিআই-এর তরফে একটি ইমেল পাঠানো হয়। সেই মেইলেরই একটি হার্ড কপি গত ৫ মার্চ পাঠানো হয় কলকাতায় অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দফতর তৃণমূল ভবনে।
ভূঁইফোঁড় আর্থিক লগ্নীকারী সংস্থা সারদার আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা একটি ছবি’র কথা জানতে পারে অফিসাররা। তারা জানতে পারে মুখ্যমন্ত্রী আঁকা একটি ছবি বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ৮০ লক্ষ রুপিতে। এবার সেই ছবির বিক্রি সংক্রান্ত যাবতীয় নথি চাইল সিবিআই।
গত বছরের মে মাসে লোকসভার ভোটের আগে হঠাৎই এই ছবি বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ সারদা কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের কাছে ওই ছবিটি বিক্রি করা হয়েছিল। যদিও সেসময় মুখ্যমন্ত্রীর কোনো ছবি কেনার কথা অস্বীকার করেন সুদীপ্ত সেন। মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে লোকসভার নির্বাচনী প্রচারনায় এসে মোদিও মমতার সেই ছবি বিক্রি নিয়ে তাকে আক্রমণ করেছিলেন।
যদিও নিজের আঁকা ছবি বিক্রি করে একটি পয়সাও নেননি বলে দাবি করেছিলেন মমতা। নিজের ছবি নিয়ে বিতর্ক শুরুর পরই সেসময় ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন সবটাই গেছে দলের তহবিলে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেত্রী থাকাকালীনই ২০০৫ সালে তার আঁকা ছবি দিয়ে প্রথম প্রদর্শনী হয়। ছবিগুলির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ রুপি। দ্বিতীয় প্রদর্শনী হয় ২০০৭ সালে। ছবির গড় দাম ধার্য করা হয়েছিল এক লাখ রুপি। তৃতীয় প্রদর্শনী হয় ২০১১ সালে। চতুর্থ প্রদর্শনী হয় ২০১৩ সালে।
এমএএস/আরআই