কাশ্মিরি এই শিশুর চোখের জলের জবাব কী?


প্রকাশিত: ০৩:০৮ পিএম, ১৬ মার্চ ২০১৭

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু কাশ্মিরে নিপীড়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে ৯ বছর বয়সী বুরহান ফায়াজের শোকাহত এই ছবি। গত সপ্তাহে কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আমির নাজির নামে ফায়াজের এক বন্ধুর প্রাণহানি ঘটে। আমিরের দাফনে অংশ নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে ফায়াজ।

তার চাপা শোকের ছবিটি তুলেছেন দেশটির জাতীয় দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসের এক সাংবাদিক। এরপরই ছবিটি ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই মন্তব্য করে বলছেন, কাশ্মিরি জনগণের ভোগান্তির প্রতীক ফায়াজের কান্নার ওই ছবি।

বলা হয়, একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়ে শক্তিশালী। বেদনার্ত এক কাশ্মিরি বালকের গাল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়া ছবিটি ওই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ ও করুণ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেছে।

kashmiriদক্ষিণ কাশ্মিরের পদগামপোড়ায় বন্ধুর দাফনের সময় স্ন্যাপশটে ধরা পড়া ফায়াজের ওই ছবিকে ইতোমধ্যে অনেকেই বিয়োগান্তক ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করছেন। তারা বলছেন, চীনের তিয়েন আনমেন স্কয়ারে এক শিশুর অগ্রসর হতে থাকা একটি ট্যাংককে ঠেকানোর চেষ্টা কিংবা সিরিয়া যুদ্ধ থেকে পালিয়ে বাঁচতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে নিহত শিশু আয়লান কুর্দির দুর্দশা ও করুণ পরিণতির ছবির মতোই এই ছবি।

মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হলেও ৯ বছরের ফায়াজ নিজেকে সেলিব্রেটি ভাবছে না। বন্ধু আমিরকে হারানোর হতাশা ও বেদনার চিত্র উঠে এসেছে ওই ছবিতে। কাশ্মিরের বেগমবাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফায়াজ বলে, আমি এখনো দুঃখ ভারাক্রান্ত।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কাশ্মিরে জঙ্গিদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় শত শত স্থানীয় নাগরিক আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর অভিযানে বাধা দেয় এবং কোণঠাসা হয়ে পড়া জঙ্গিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। স্থানীয়দের মধ্যে ফায়াজের বন্ধু আমিরও ছিল।

ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের কঠোর সতর্কতা সত্ত্বেও কাশ্মিরিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর নিক্ষেপ কাশ্মিরিদের প্রতিরোধের নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমির গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার বলছে, তাকে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়া হয়েছিল; ভুলক্রমে সেই গুলি তাকে আঘাত হানায় মারা গেছে ওই কিশোর।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থান থেকে চার কিলোমিটার দূরে বেগমবাগে আমিরের দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে অংশ নিয়েছিল ফায়াজসহ হাজার হাজার মানুষ। বুরহান নামের এক কিশোর বলে, আমির আমার ভাইয়ের মতো ছিল। এখন আমি কার সঙ্গে খেলব?- সান্ত্বনাতীত এই প্রশ্ন এখন বুরহানের।

kashmiri

ফায়াজের হৃদয়বিদারক কান্নার সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে; হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এই ছবি অনেকের চোখের পানি ঝড়িয়েছে। এমনকি অনেকে ফায়াজের ছবিটি ঘিরে কবিতাও লিখেছেন।

পাকিস্তানি কবি ফাইজ আহমাদ ফাইজের কবিতা উদ্ধৃত করে মানবাধিকার কর্মী খুররাম পারভেজ ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘খুন ক্যায় ধাবায় দুল্যাইন, গ্যায় কিতনি বরষাতু ক্যায় বাদ...(রক্তের দাগ ধুয়ে নিতে আর কতো বৃষ্টি লাগবে...)।’

কাশ্মিরের একটি ব্লগে বুরহানের কান্নার ছবিটির শিরোনাম দেয়া হয়েছে, ‘এ ট্রিবিউট টু দ্য ইনোসেন্ট ফেস’। এতে লেখা হয়েছে, ‘তার চোখের জলের জবাব দাও বিশ্ব/তার ভগ্নহৃদয় দেখো/ তার কান্না শোনো।’

বুরহানের প্রশ্ন, আমার বন্ধু শহীদ হয়েছে। কিন্তু সে কেন প্রাণ হারাল?

এসআইএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।