লাহোরে অটো চালাচ্ছেন নারীরা!
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোর শহরের বাসিন্দা জার আসলাম। অটোরিকশায় উঠলে প্রায়ই তাকে বিরক্ত করতেন পুরুষ চালকরা। অগত্যা জার আসলাম নিজেই একটি অটো রিকশা কিনে ফেলেছেন। নিজেই চালান। তবে তার অটোর যাত্রী হতে পারবেন শুধুমাত্র মহিলারাই।
গোটা পাকিস্তান চমকে গেছে জারের এই অটো কেনার গল্প জেনে। এমনিতেই দেশটিতে মহিলামহলকে পর্দার পেছনেই থাকতে হয়। ইদানিং অবশ্য, বিশেষ করে, লাহোর এবং করাচিতে আসতে আসতে, পর্দা সরিয়ে অনেক মহিলা এগিয়ে আসতে চাইছেন। জার আসলাম তেমনই একজন।
অভিজ্ঞতা খুব খারাপ ছিল তার। একবার তো তাকে এক পুরুষ আটোচালক দ্রুত গাড়ি চালিয়ে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মতলব করেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন স্কুলের ছাত্রী। কোনো রকমে নিজেকে বাঁচানোর পর, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিজেই একটি অটোরিকশা কিনে ফেলবেন।
যেহেতু শুধুমাত্র মহিলাদেরই তিনি তার অটোয় তুলবেন, তাই, গোলাপি রঙ দিয়েছেন তার বাহনকে। এখনো পর্যন্ত, লাহোরের রাস্তায় এটায় একমাত্র গোলাপি অটো। মহিলামহল মনে করছে, জারের মতো, অনেক মহিলাই এবার অটো চালানোর দিকে মন দেবেন। জার অবশ্য এখানেই থেমে থাকছেন না।
তিনি জানিয়েছেন, ‘এনভায়র্নমেন্ট প্রোটেকশন ফান্ডের পক্ষ থেকে আমরা আরও মহিলাদের টাকা অল্প সুদে ধার দেওয়ার উদ্যোগ নেব। অনেক পৃষ্ঠপোষক এগিয়ে আসতে চাইছেন। আমরা চাই, মহিলারা অটো চালানো শিখুক। ড্রাইভিং লাইসেন্স যাতে মহিলারা পেয়ে যায়, সেদিকে নজর থাকবে।’
পাকিস্তানে একটি অটোর দাম তিন লক্ষ পাকিস্তানি রুপি। এই টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক মহিলাই। তবু, জার আসলাম দমে যাচ্ছেন না। তিনি চান, এ বছরের শেষে লাহোরের রাস্তায় যেন অন্তত ২৫টি অটোরিকশা নামতে পারে।
বিএ/আরআইপি