নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা
আর মাত্র একদিন বাকি, তারপরেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। শনিবার (৯ মে) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মাঠে শপথবাক্য পাঠ করানো হবে বিধায়কদের। এরই মধ্যে রাজ্যে উপস্থিত হয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও বর্তমানে বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
শুক্রবার (৮ মে) কলকাতার নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। সেখানেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না মমতা ব্যানার্জী- এই বিষয়ে তিনি বলতে গিয়ে বলেন, এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কারণ সরকারের যে সময় ছিল সেই সময় শেষ হয়ে গেছে। আর মুখ্যমন্ত্রীর যে পদ ছিল, সেটা অটোমেটিকলি সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। সংবিধান অনুসারে, মমতা মুখ্যমন্ত্রীর পদে আর থাকতে পারবে না। আর আগামীকাল নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবে, তখন থেকেই নতুন সরকারের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলা আরও বলেন, আপনি (মমতা ব্যানার্জী) পদত্যাগ করবেন, কি করবেন না সেটা দ্বিতীয় কথা। আপনি তো অনেক ভোটে পরাজিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন। মানুষের আশা, আপনি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করুন। এই নয় যে আপনি থাকবেন।
উদাহরণ দিয়ে তিনি এও বলেন, আমাদের ইতিহাসে কেউ এমন বলছে যে, আমি পরাজিত হয়েছি কিন্তু পদ ছাড়বো না। কংগ্রেস সরকার, বিজেপি সরকার, মানে যে কোনো সরকার এখন পর্যন্ত যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ প্রধানমন্ত্রী, কেউ অন্য মন্ত্রী ছিলেন, তারা কি কেউ বলেছেন আমরা পদত্যাগ করবো না?
‘তামিলনাড়ুতে ডিএমকের মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন যখন হেরেছেন, তখন তিনিও পদত্যাগ করেছেন। কীসের জন্য আপনি ফেভিকলের মতো চেয়ারে বসে থাকবেন? আমাদের দেশে এরকম হয় না। বাংলার মানুষ জানে, কে জিতেছে আর কে কার কাছে হেরেছে।’
বিজেপি প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে- সেই বিষয়েও মন্তব্য করেন সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব। তার কথায়, শনিবার (৯ মে) একটা ঐতিহাসিক দিন হবে। ৫০ বছরে বাংলায় প্রথমবার এমন একটি সরকার তৈরি হবে, যা রাজ্য ও কেন্দ্রে একই দলের। যে পরিবর্তন বাংলার মানুষের দরকার ছিল তা এসে গেছে। সুরক্ষা,বিকাশ এবং মানবিক রূপ নেবে, তা আগামীকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে।
ডিডি/এসএএইচ