লাদেনের মৃত্যুর পর পাওয়া শতাধিক চিঠি প্রকাশ
২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর তার বাসস্থান থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় শতাধিক চিঠি এবং নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কঠোর পর্যালোচনার পর এগুলো প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের অফিস।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জেমস ক্ল্যাপারের মুখপাত্র জেফরি অ্যানচুকাইটিস জানান, সিআইএ’র নেতৃত্বাধীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কঠোর পর্যালোচনার পরেই নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।
অবশিষ্ট নথিপত্রগুলোও যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার পর প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রকাশকৃত নথিগুলোর মথ্যে রয়েছে প্রায় ১০০টি চিঠি যেগুলোর বেশিরভাগই বিন লাদেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার সহযোগিদের সাথে আদান প্রদান করেছেন। এছাড়াও প্রকাশ করা হয়েছে লাদেনের সংগ্রহে থাকা বইয়ের তালিকা। তালিকায় ইসলামি চিন্তাবিদদের বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি রয়েছে ইংরেজী ভাষায় রচিত ইতিহাস ও সমকালীন বিষয়ের বিভিন্ন বই। নোয়াম চমস্কি এবং বব উডওয়ার্ডের মত বিখ্যাত লেখকদের বইয়ের নামও রয়েছে সে তালিকায়।
১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ার হামলার ১০ বছর পূর্তি উদযাপনের লক্ষ্যে লাদেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। লাদেন তার মিত্রদের কাছে এ বিষয়টি জানিয়ে চিঠিও লিখেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট ছিলেন।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী এক চিঠিতে লাদেন লিখেছিলেন, ‘আমরা নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে আশীর্বাদধন্য হামলার ১০ বছর পূর্তি উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছি। চিঠিতে টুইন টাওয়ার হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারের গুরত্বও মিত্রদের বোঝানোর চেষ্টা করেন লাদেন।
শেষ দিনগুলোয় লাদেনকে মার্কিন নজরদারি তাড়িয়ে বেড়াত। এ বিষয়ে তিনি আতঙ্কে থাকতেন। এ জন্য তার পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণেও সতর্ক থাকতে বলেন। এমনকি ইন্টারনেট ব্যবহার না করে কুরিয়ারের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করার নির্দেশ দেন লাদেন।
প্রকাশিত এসব নথির মধ্যে লাদেনকে লেখা দুটি চিঠি রয়েছে। এ চিঠি দুটি লিখেছে তার ছেলে ২২ বছর বয়সী হামজা। তাছাড়া আরেকটি চিঠি রয়েছে, যা হামজার মায়ের লেখা, লিখেছেন লাদেনকেই। চিঠিতে বলা হয়েছে, হামজা তার বাবার পথই অনুসরণ করতে আগ্রহী। পরবর্তী সময়ে হামজাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে সেও আল কায়েদার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে যোগ দেয়।
ধারণা করা হয়, বাবার ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্তদের একজন হয়ে ওঠার লক্ষ্যে হামজা তরুণ বয়েসেই সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নিয়েছিল। একই লক্ষ্য নিয়ে সেই সময়ে সে অপপ্রচারমূলক ভিডিও তৈরি করেছিল। হামজা বেশ কয়েক বছর ধরে কোনো ভিডিও প্রকাশ করেনি। প্রকাশ্যেও আসেনি।
মার্কিন প্রশাসন লাদেনকে হত্যার মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে- বিখ্যাত অনুসন্ধানী সাংবাদিক সেইম্যুর হার্শের এমন অভিযোগের পরপরই নথিগুলো প্রকাশ করলো মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সূত্র : গার্ডিয়ান।
এআরএস/পিআর