আসছে মেদ কমানোর জাদুকরী ওষুধ!


প্রকাশিত: ০৫:৪৬ পিএম, ২৩ মে ২০১৫

মেদ কমানোর চেষ্টায় গবেষক আর বিজ্ঞানীরা কত চেষ্টাই না করলেন। ভারতের আদিবাসীদের শিকারের আগে ব্যবহার করা বিশেষ এক ধরণের উদ্ভিদ নিয়ে তারা পরীক্ষা করেছিলেন কিছুদিন আগে। এই উদ্ভিদের ডাল চিবিয়ে প্রত্যন্ত ভারতের কিছু আদিবাসী ক্ষুধাকে দমিয়ে রাখতে পারে। আফ্রিকার ‘হুডিয়া’ উদ্ভিদও পরীক্ষা করে দেখেছেন তারা। এই কাঁটাওলা উদ্ভিদের বাকল চিবুলে কিছু না খেলেও পেট ভরা মনে হয়। এই সব উদ্ভিদের উপাদান আলাদা করে বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করে আসছিলেন স্থুলতার চিকিৎসায় এদের ব্যবহার করতে। কিন্তু বিশেষ ফল মেলেনি কোনোটাতেই।

তবে, এবার বিজ্ঞানীরা সত্যিকার অর্থেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন চীনা একটি লতানো গাছ নিয়ে। থান্ডার গড লতা নামে প্রাচীন চীনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই উদ্ভিদ দারুণ কার্যকরভাবে স্থুলতা প্রতিরোধ করতে পারে বলে জানাচ্ছেন তারা।

নামকরা বিজ্ঞান জার্নাল ‘সেল’-এ সম্প্রতি এই উদ্ভিদ নিয়ে করা পরীক্ষার ফল সম্পর্কে জানিয়েছেন বস্টন চিল্ড্রেন্স হসপিটাল এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অ্যান্ড্রোক্রিনোলজিস্ট ওমাত ওযকান।

ওযকান জানান, এই চীনা উদ্ভিদটি লেপটিন নামে চর্বিজাত বিশেষ একধরণের হরমোন নিঃসরণ করে, যা শক্তি ও খাদ্য যথেষ্ট পরিমাণে গ্রহণ হলে শরীরকে সংকেত দেয়। এই হরমোনের অভাবে মানুষ প্রচুর খেলেও শরীর খাওয়া থামানোর সংকেত পায় না। ফলে স্থুলতা বেড়ে যায়।

স্থুল ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে থান্ডার গড ভাইন নামে উদ্ভিদ থেকে সংগ্রহ করা নির্যাস, যার নাম গবেষকরা দিয়েছেন সেলেস্ট্রল, এই বিশেষ হরমোন নিঃসরণকে উৎসাহিত করছে। ফলে ইঁদুরের খাবার গ্রহণের হার ৮০ শতাংশ কমে গেছে। আর সে কারণে তিন সপ্তাহেই ইঁদুরগুলোর ওজন কমে গেছে অর্ধেক।

এই দারুণ কার্যকর উদ্ভিদ কোলেস্টেরল কমানোর মতো আরও বেশ কিছু উপকার করছে শরীরের, কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই।

অবশেষে স্থুলতা রোধের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে যাদুকরী ওষুধটি আবিষ্কারের উত্তেজনা থাকলেও, গবেষকরা মানুষের শরীরে এর প্রভাব পরীক্ষার আগে আরেকটু যাচাই করে নিতে চাচ্ছেন।

তবে, এখন পর্যন্ত অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে স্থুলতা কমানোর চেষ্টায় হাল ছেড়ে দেওয়া মানুষদের জন্য শিগগিরই আসছে সুখবর!

এসআরজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।