মার্কিন হামলার সমালোচনা
ইরান-আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মধ্যস্থতাকারী হতে পারে ভারত: ল্যাভরভ
শুক্রবার পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ। একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘উসকানিবিহীন আগ্রাসনের’ মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
তবে ল্যাভরভ প্রস্তাব দেন, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়ে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে ভারত।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ হরমুজ প্রণালি সংকটে ইরানের অবস্থানকে সমর্থন করেন। তেহরানের বিরুদ্ধে নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। এর পাশাপাশি তিনি বাণিজ্য, যোগাযোগ ও কূটনীতিতে ভারতের সঙ্গে মস্কোর বাড়তে থাকা অংশীদারিত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার গভীরতর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ল্যাভরভের বক্তব্য
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রসঙ্গে ল্যাভরভ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরই হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট তৈরি হয়েছে। দোভাষীর মাধ্যমে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রতিটি সংঘাতের মূল কারণ বোঝা দরকার। আর আমরা জানি, এখানে মূল কারণ হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানিবিহীন আগ্রাসন।’
তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির আগে কৌশলগত এই জলপথে নৌচলাচল নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। এখন সবাই ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ইরানকে অঞ্চল অস্থিতিশীলকারী শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘দীর্ঘমেয়াদি মধ্যস্থতাকারী‘ হতে পারে ভারত
এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মন্তব্যে ল্যাভরভ বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করছে পাকিস্তান। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক অবস্থানের কারণে নয়াদিল্লি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারে।
একই সঙ্গে ল্যাভরভ প্রস্তাব দেন, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়ে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে ভারত।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানো। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয় না ব্রিকস একটি সংগঠন হিসেবে মধ্যস্থতা করবে। তবে ব্রিকসের পৃথক সদস্যরা, বিশেষ করে যারা হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী, তারা ভূমিকা রাখতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ভারত(বর্তমানে ব্রিকসের সভাপতি) এবং এই অঞ্চল থেকে তেল পাওয়ার বিষয়ে সরাসরি আগ্রহী। তারা ইরান ও ইউএইকে আলোচনায় বসতে আমন্ত্রণ জানাতে পারে।’
ভারত-রাশিয়া অংশীদারিত্ব
নয়াদিল্লি সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ও তুলে ধরেন ল্যাভরভ। তিনি বলেন, ‘এই আলোচনা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ভারত-রাশিয়ার বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ ছিল।’
ল্যাভরভ আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় আমরা আমাদের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।’
তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য এবং পরিবহন করিডোর সম্প্রসারণসহ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে ভারত-রাশিয়া।
রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রসঙ্গে ল্যাভরভ বলেন, ‘ভারতে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এটি ভারতের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে। তথ্য বলছে ভারতে তেল সরবরাহ বেড়েছে এবং এটি আমাদের ওপর নয় বরং আমাদের ভারতীয় অংশীদারদের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে।’
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনের ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং উদীয়মান ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়।
সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান
কেএম