আবারও প্রশ্নের সম্মুখীন ওড়িষ্যার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫২ এএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

ভারতের পূর্ব উপকূলের রাজ্য ওড়িষ্যার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা আবারও প্রশ্নের সম্মুখীন। হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে পরিত্যক্ত নর্দমায় সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হয়েছেন এক নারী। এমন বেদনাদায়ক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে ওড়িষ্যার জুড়ে। দাবি তোলা হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই নারী কোনো চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নেওয়ার জন্য যাননি। এমনকি বহির্বিভাগ থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। তবে ওই নারী হাসপাতালের নর্দমায় সন্তান প্রসব করেছেন, তা স্বীকার করেছেন কোরাপুট জেলার শহিদ লক্ষ্মণ নায়েক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার সীতারাম মহাপাত্র।

রাজ্যের গণমাধ্যমে জানানো হয়, কোরাপুট জেলার মস্তিপুত পঞ্চায়েতের পতালজানিগুড়া গ্রামের বাসিন্দা ওই নারীর নাম ধানেই মুদুলি (৩০)। স্বামী রঘু মুদুলি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন গত বুধবার। গতকাল (শনিবার) তিনি স্বামীকে দেখতে আসেন। হাসপাতালে এসেই তিনি প্রসব যন্ত্রণা অনুভব করেন। সঙ্গে সঙ্গেই ধানেই হাসপাতালের আউটডোরে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার কাছে পূর্বের প্রেসক্রিপশন ও মেডিকেল রিপোর্ট দেখতে চান। কিন্তু সেগুলো তিনি দেখাতে পারেননি।

এর পরই তার চিকিৎসা করতে অস্বীকার করে ধানেইকে বহির্বিভাগ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ততক্ষণে তার প্রসব বেদনা বাড়তে থাকে। বেগতিক বুঝে ধানেই হাসপাতাল ক্যাম্পাসের মধ্যেই একটি চায়ের দোকানের পিছনে নির্জন পরিত্যক্ত নর্দমায় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর নিজেই পথচলতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাকে ও তার সদ্যোজাতকে উদ্ধারে মিনতি জানান।

ধানেইকে উদ্ধারের পর ওই হাসপাতালেই নবজাতকসহ তাকে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছে কোরাপুট জেলার ‘সিটিজেন্স ফোরাম’।

আরএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :