নাগরিকত্ব পাচ্ছেন সেই থাই কোচ ও তিন কিশোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৪ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৮ | আপডেট: ১০:২৮ এএম, ১৪ জুলাই ২০১৮

থাইল্যান্ডের গুহায় দীর্ঘ দু’সপ্তাহ ধরে আটক থাকার পর একটি ফুটবল দলের ১২ কিশোর এবং তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে তিন কিশোর ও তাদের কোচকে নাগরিকত্ব দিচ্ছে থাইল্যান্ডের সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

কোচ এক্কাপল চ্যান্তাওয়াং ও উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরের থাইল্যান্ডের নাগরিকত্ব নেই। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মতে, কোচ এক্কাপল চ্যান্তাওয়াং একজন দয়ালু ও নম্র স্বভাবের। খেলাধুলাই তার নেশা। তবে থাইল্যান্ডের নাগরিকত্ব পাওয়া তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন।

গত ২৩ জুন বেড়াতে গিয়ে দেশটির উত্তরাঞ্চলের চিয়াং রাই প্রদেশের থ্যাম লুয়াং গুহায় আটকা পড়েন উইল্ড বোর ফুটবল দলের ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ। দুই সপ্তাহ আটকা থাকার পর তাদের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তিনদিনের দুঃসাহসিক অভিযানে তাদের ওই গুহা থেকে বের করে আনা হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ব্যাংকক বলছে, উদ্ধার হওয়া তিন কিশোর ও কোচ থাইল্যান্ডের নাগরিক নন। তবে সরকার অঙ্গীকার করেছে, তাদের আইনি সহায়তা দেয়া হবে। যদি এক্ষত্রে কোনো জটিলতার সৃষ্টি না হয়, তবে আগামী ছয়মাসের মধ্যেই তারা থাইল্যান্ডের নাগরিকত্ব পাবে।

তবে মানবাধিকার গ্রুপের কর্মীরা বলছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়ায় থাইল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেতে এক্কাপলকে অন্তত আরও দশ বছর অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এ সময়ে তার বংশ পরিচয় যাচাই করা হবে। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

কোচ এক্কাপল তাই লুই সম্প্রদায় ও তিন কিশোর বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য। যারা শত শত বছর ধরে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস ও চীনের খণ্ডিত ভূমি যা গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল হিসেবে পরিচিত থাইল্যান্ডের কেন্দ্রে অবস্থিত মায়ে সাইয়ে বসবাস করে আসছেন। সংখ্যায় এরা পাঁচ লাখ। থাইল্যান্ডে তারা রাষ্ট্র পরিচয়হীন।

উইল্ড বোর ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা নোপ্পার্যাত খান্থাভং বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, থাই গুহায় আটকা পড়া কিশোর ফুটবল দলের কোচ একাপ্পলের পাশাপাশি তিন সদস্য দুল, মার্ক ও তি যাযাবর সম্প্রদায়ের; যাদের কোনো রাষ্ট্রীয় পরিচয় নেই।

‘জাতীয়তা পাওয়া ছেলেদের সবচেয়ে বড় আশা... অতীতে চিয়াং রাইয়ের বাইরে এই তিন কিশোরের খেলতে যাওয়ার সময় ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাদের পরিচয় না থাকার কারণে চিয়াং রাইয়ের বাইরে চলাচলে কড়া বিধি-নিষেধ রয়েছে।’

এমনকি আগামী মৌসুমে ফুটবল ক্লাব ম্যানেচেস্টার ইউনাইটেডের আমন্ত্রণে খেলা দেখতে যাওয়ার সম্ভব হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পাসপোর্ট না পায়।

তিন কিশোর ও কোচের নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে নোপ্পার্যাত খান্থাভং বলেন, তারা পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়ও হতে পারবে না; কারণ তাদের জাতীয়তা নেই। তবে ছেলেদের এই প্রচেষ্টা থাই নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল থাইল্যান্ডের পর্নপেন খংকাচোনকিয়েত বলেন, গুহার ভেতরে কিশোরদের আটকা থাকার ঘটনায় রাষ্ট্রহীন মানুষদের নাগরিকত্ব দিয়ে থাইল্যান্ডের ঘুম ভাঙা উচিত।

জাতিগত তাই লু সম্প্রদায়ের সদস্য কোচ একাপ্পল একজন নতুন সন্ন্যাসী। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই তিনি ধ্যান করে আসছেন। কয়েক বছর অাগে মায়ে সাই এলাকায় তার দাদির দেখাশোনা করার জন্য বৌদ্ধ পাদরীর পদ ছেড়ে পুরোদস্তুর সন্ন্যাসী হয়ে উঠেন। পরে উইল্ড বোর ফুটবল দলের কোচ হিসেবে নাম লেখান তিনি।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এএফপি

এসআর/টিটিএন/এমএস