খাশোগি ইস্যুতে ‘গণেশ উল্টানো’র ভয়ে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে সৌদির ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির বর্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উভয় সঙ্কটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক মার্কিন শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষক এমন মন্তব্য করেছেন।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জেমস ফিতজার বলেন, যদি খাশোগির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন রিয়াদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিল্পখাতে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।

সোমবার প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ফিতজার বলেন, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ট্রাম্পকে উভয় সঙ্কটে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে হয় ট্রাম্পকে এই বর্বর হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে হবে এবং সৌদির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে অথবা ভিন্ন পথে সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

কিন্তু সৌদির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে মার্কিন সামরিকখাতে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। কারণ তাদের সৌদির সঙ্গে ১১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র চুক্তি বাতিল করতে হবে।

ওই অধ্যাপক আরও বলেন, খাশোগির মৃত্যুর বিষয়ে অনেক দেরিতে ব্যখ্যা দিয়েছে সৌদি। দেশটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে তাকে হত্যা করা হয়। প্রাথমিকভাবে সেই ব্যখ্যাকে বিশ্বাসযোগ্য বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট এবং সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক ছিলেন জামাল খাশোগি। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তিনি নিখোঁজ হন। গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর তিনি নিখোঁজ হন। সেখানে কিছু কাগজপত্রের জন্য গিয়ে ছিলেন খাশোগি। কিন্তু তিনি আর ফিরে আসেননি।

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের ভয়াবহ পরিণতির সম্মখীন হতে হবে। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, সৌদির কাছে বিশাল অস্ত্র বিক্রয়ের চুক্তি রক্ষা করার চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন।

শনিবার ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে, খাশোগি হত্যার বিষয়টি সৌদি যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। সৌদির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত। ফলে এখন একটা প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে যে যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে?

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি আরব এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমদিকে সৌদির তরফ থেকে খাশোগিকে হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। কিন্তু পরে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টে জানানো হয় যে, কনস্যুলেটের ভেতরে জামাল খাশোগি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে নিহত হন। এই ঘটনাকে ভয়ানক ভুল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা প্রথমদিকে বলেছিল যে, জামাল খাশোগি কাজ শেষে ওই দিনই কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো সৌদির তরফ থেকে খাশোগির নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়। ওই ঘটনার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, তিনি সত্য ঘটনা প্রকাশ করবেন।

টিটিএন/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :