সিরিয়া ছাড়তে শুরু করেছে মার্কিন সেনারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:১১ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯

অবশেষে সিরিয়া থেকে ফিরতে শুরু করেছে মার্কিন সেনারা। কুর্দি বিদ্রোহীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া।

সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে লড়াই করা আন্তর্জাতিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল শন রায়ান বলেন, সিরিয়া থেকে ফিরতে শুরু করেছে মার্কিন সেনারা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের দাবি, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে দেশে ফিরে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে মার্কিন সেনারা। যদিও নিরাপত্তার ক্ষত্রে সৈনিকদের ফেরার সময় ও রাস্তা গোপন রাখা হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সেনাঘাঁটি থেকে সাঁজোয়া গাড়ি ও যুদ্ধের ভারি সরঞ্জাম সরাতে শুরু করেছে মার্কিন সেনারা। এদিকে মার্কিন এই পদক্ষেপে আশঙ্কায় রয়েছে ইজরায়েল ও প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা কুর্দি বিদ্রোহীরা। উদ্বিগ্ন ন্যাটো দেশগুলিও।

তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নেমেছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। গত রোববার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে জেরুজালেমে সাক্ষাৎ করেন তিনি। নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করে বোল্টন বলেন, সমস্ত দিক সুরক্ষিত করেই সেনা প্রত্যাহার করা হবে যাতে ফের ইসলামিক স্টেট ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।

এদিকে, বোল্টন আশ্বস্ত করলেও সিরিয়ায় জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। মার্কিন হস্তক্ষেপে ইতি পড়তেই আগ্রাসী হয়েছে তুরস্ক। উত্তর সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করেছে তুরস্কের মদতপুষ্ট বিদ্রোহীরা। উত্তর সিরিয়ায় কুর্দি মিলিশিয়া ‘কুর্দিশ পিপলস প্রোটেকশন ফোর্সেস’-এর (ওয়াইপিজি) নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার পাশে যোদ্ধাদের মোতায়েন করছে তুরস্কপন্থী হামজা ডিভিশন।

উল্লেখ্য, ইসলামিক স্টেট ও আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওয়াইপিজির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’ (এসডিএফ)। এদিকে ওয়াইপিজিকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করেছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অভিযোগ, তুরস্কে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দিচ্ছে এসডিএফ। ‘কুর্দিস্তান’ গঠনে কুর্দি জঙ্গিদের হাতিয়ার দিচ্ছে তারা। ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সেনাদের প্রত্যাহার করে নিলেই সিরিয়ায় কুর্দিশ বাহিনীর উপর হামলা চালাবে তুর্কি সেনারা।

গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, সন্ত্রাস জর্জরিত দেশটিতে পরাজয় হয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের। তাই সে দেশে মোতায়েন করা মার্কিন সৈন্যদের ফেরত নিয়ে আসা হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থানে সিরিয়ায় আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে রাশিয়া ও ইরান। আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ।

মার্কিন সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলও। সীমান্তের কাছেই রুশ সেনাদের উপস্থিতিতে অশনি সংকেত দেখছে তেল আবিব। প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, যে কোনও পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করবে ইসরায়েল।

টিটিএন/এমকেএইচ