ইরানি নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ১০ মে ২০১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের চরম বিদ্বেষী নীতির জের ধরে দু’দেশের মধ্যে যখন উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই এমন আগ্রহ প্রকাশ করলেন তিনি। খবর পার্স ট্যুডে।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি ইরানের ব্যাপারে যা দেখতে চাই তা হলো তারা আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাকে টেলিফোন করছে। তিনি বলেন, আমি চাই ইরানি কর্মকর্তারা একটি ভালো চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আলোচনা করতে আমাকে টেলিফোন করুক। এ ধরনের চুক্তি ইরানকে চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সহযোগিতা করবে। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানিদের কাছ থেকে বেশি কিছু চান না; শুধু চান ইরানিরা পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করুক।

ট্রাম্প এমন সময় এ দাবি করলেন যখন পশ্চিমাদের ভাষায় ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেয়ার লক্ষ্যে আমেরিকাসহ ছয় বিশ্বশক্তি ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সাক্ষর করে। কিন্তু ট্রাম্প গত বছরের মে মাসে পুরো বিশ্বের বিরোধিতা উপেক্ষা করে সেই সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনেন।

হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দেন। একই সঙ্গে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার প্রশাসনের ইরান নীতি প্রত্যাখ্যান করে জন কেরি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আইন লঙ্ঘন করছেন এবং এজন্য তার বিচার হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, জন কেরি টেলিফোনে তাদের সঙ্গে অনেক বেশি কথা বলছেন এবং তিনি তাদেরকে বলছেন তারা যেন আমাকে ফোন না করে। এটি আইনের লঙ্ঘন এবং অকপটে বলতে গেলে এজন্য তার বিচার হওয়া উচিত।

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জন কেরির এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ যা কিছু বলেছেন তার সব ভুল এবং কল্পকাহিনী। তিনি বাস্তবতা বুঝতে পারেননি, আইন বোঝেননি এবং সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিরাপদ রাখতে হয় সেই কূটনীতি তিনি রপ্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

টিটিএন/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :