বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই
মালিতে কোণঠাসা রাশিয়ার ভাড়াটে সৈন্যরা
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে আচমকা সমন্বিত হামলা চালিয়েছে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এতে প্রাণ হারিয়েছেন হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। হামলা হয়েছে রাজধানী বামাকোর বিমানবন্দরের কাছেও। সেখানে রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের অন্যতম প্রধান সদর দপ্তর রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বামাকোর বিমানবন্দরের কাছে হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিল রুশ ভাড়াটে সৈন্যরা।
সাংবাদিক নিকোলাস হক বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টে প্রচণ্ড চাপ থাকার কারণে এই রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের একটি অংশকে মালি থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর এটাই বর্তমানে মালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন>>
মালিতে দেশজুড়ে সশস্ত্র হামলা কারা চালালো?
মালিতে দেশজুড়ে হামলা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত
তিনি আরও বলেন, মনে হচ্ছে রুশ ভাড়াটে যোদ্ধারা কিদাল শহরটি অথবা অন্তত সেখানে মালির সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের যে সামরিক ক্যাম্প ছিল, সেটি বিদ্রোহীদের কাছে সমর্পণ করেছে।
হক বলেন, তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা রুশদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তারা আদৌ অস্ত্র জমা দিয়েছে কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে এটা স্পষ্ট যে রুশরা কিদাল শহর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের এই লড়াই না করে পিছু হটা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
ওয়াগনার থেকে ‘আফ্রিকা কর্পস’
গত বছরের জুন মাসে রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপ জানিয়েছিল, সাড়ে তিন বছর পর তারা মালি থেকে চলে যাচ্ছে। এই আধাসামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।
তবে ওয়াগনারের বিদায়ের মানে এই নয় যে মালি থেকে রুশ যোদ্ধারা পুরোপুরি চলে গেছে। রুশ যোদ্ধারা এখন ‘আফ্রিকা কর্পস’ নামে কাজ করছে। এটি ক্রেমলিন সমর্থিত একটি আলাদা আধাসামরিক বাহিনী, যা ২০২৩ সালের জুন মাসে ওয়াগনার প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের ব্যর্থ বিদ্রোহের পর তৈরি করা হয়েছিল।
মালি ছাড়াও এই ‘আফ্রিকা কর্পস’ বর্তমানে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মতো অন্যান্য আফ্রিকান দেশেও সক্রিয় রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/