ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় সুপ্রিম কোর্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের করে আনার জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেটাকে বেআইনি বলে তার বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমমন্ত্রী বরিস জনসনের বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষণা করেছেন, তা বর্ণনা করতে গিয়ে বিশ্লেষকরা অভূতপূর্ব, ঐতিহাসিক, অসাধারণ, যুগান্তকারী শব্দগুলো ব্যবহার করছেন।

সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যেভাবে পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করেছিলেন, তা বেআইনি। চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করেন। সুপ্রিম কোর্টের ১১ জন বিচারপতি সর্বসম্মত হয়ে আজ মঙ্গলবার ‘ঐতিহাসিক’ এই রায় দিলেন।

অধিবেশন স্থগিত করার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকারের নুতন নীতি পার্লামেন্টে রানির ভাষণের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য এই সময় দরকার তার। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, তিনি পার্লামেন্ট স্থগিত করেছেন যাতে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে পার্লামেন্টে তাকে জবাবদিহি করতে না হয়।

সুপ্রিম কোর্ট আজকের রায়ে বলেছেন, আগামী ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমার আগে পার্লামেন্টকে তার দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত রাখা ছিল ভুল পদক্ষেপ। সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট লেডি হেল রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের প্রভাব ছিল চরম। রানিকে পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়া ছিল অবৈধ। কারণ কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই এর মাধ্যমে পার্লামেন্টকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষমতায় বাধা দেয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের জন্য এই রায় এক বিরাট ধাক্কা। কেননা ইতোমধ্যেই বিরোধী দলগুলো তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, এই রায়ে জনসনের গণতন্ত্রের প্রতি অবমাননা প্রকাশিত হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন বার্কো। ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপি র্বার্কো বলেন, ‘আর দেরি না করে অবিলম্বে পার্লামেন্টকে বসতে হবে।’ তিনি এরই মধ্যে বুধবার পার্লামেন্টের অধিবেশন ডেকেছেন।

এসএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]