চীনে জাপানি এমপির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১০ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

জাপানের পার্লামেন্টের সাবেক এক আইনপ্রণেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চীনের একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে গত ছয় বছর ধরে দেশটিতে মাদক পাচারের মামলা চলছিল। অবশেষে ওই মামলার রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলো তাকে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, জাপানের সাবেক রাজনীতিবিদ তাকুমান সাকুরাগি ২০১৩ সালে চীনের গুয়াংঝু প্রদেশের বেইয়ান বিমানবন্দর থেকে আটক হন। সেদিন তার স্যুটকেস থেকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় তিন কেজি তিনশ গ্রাম মেথামফেটামিন জব্দ করা হয়।

আজ শুক্রবার গুয়াংঝুর প্রাদেশিক আদালত মাদক পাচারের অভিযোগে ৭৬ বছরের তাকুমানকে দোষীসাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০১৪ সালে মামলার শুনানি শেষ হয়। কিন্তু শুনানি শেষে আইনি জটিলতার কারণে বিচারক পাঁচ বছর পর ওই মামলার রায় দিলেন।

তবে জাপানের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ দাবি করেছেন, ওইদিন বিমানবন্দরে তার স্যুটকেস থেকে যে মাদকগুলো জব্দ করা হয়েছিল সেগুলো তার ছিল না। তবে এমন দাবি করলেও তিনি আদালতে এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হওয়ায় এমন রায় দিলেন আদালত।

সাকুরাগি জাপানের মধ্যাঞ্চলের আইছি অঞ্চল থেকে নির্বাচিত দেশটির সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য। চীনে মেথামফেটিন বহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে দেশটির আইন অনুযায়ী ৭৫ বছরের বেশি বয়স্কদের সাধারণত যাব্বজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় না। তবে মাদকের ক্ষেত্রে এর ব্যাতিক্রম ঘটে।

মেথামফেটিন একটি স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজক ওষুধ। এটি খুব বেশি মাত্রায় নেশা উদ্রেককারী বলে চিকিৎসায় খুব কম ব্যবহৃত হয়। নেশা হিসেবে অনেকে এটা ব্যবহার করে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এশিয়ার কিছু অংশে। ওশেনিয়া ও আমেরিকা মহাদেশেও কিছুটা হয়।

মেথামফেটিন একটি স্নায়ুবিষ। এটি মস্তিষ্কের স্নায়ু ধ্বংস করে দেয়। অনেক সময় ধরে উচ্চ মাত্রার ব্যবহারে মিথামফেটিন মানসিক সমস্যা, বিষণণতা, অলীক কল্প্না, আক্রমণাত্মক ব্যবহার সৃষ্টি করতে পারে।

এসএ/এমএস