ভারতে কয়লার বাণিজ্যিক উত্তোলন বন্ধে ৭২ ঘণ্টার হরতাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ০২ জুলাই ২০২০

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের ৪১টি কয়লা ব্লক নিলাম ও বেসরকারি বাণিজ্যিক উত্তোলনের পরিকল্পনা রুখতে দেশজুড়ে কয়লাখনি এলাকায় উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে টানা তিনদিনের হরতাল শুরু হয়েছে। ইসিএল, সিসিএল, বিসিসিএল-সহ দেশটির সবগুলো খনি এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখেছেন। ইতোমধ্যেই হরতালের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

কয়লা উত্তোলন ধাক্কা খেতে থাকায় অন্যান্য় শিল্পেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ডান-বাম কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলোর যৌথ মঞ্চের দাবি, সরকার অবস্থান না বদলালে আরও দীর্ঘ হবে তাদের আন্দোলন।

পূর্বাঞ্চলের প্রধান তিন কয়লা খনি এলাকা ইসিএল সদর দফতর পশ্চিম বর্ধমানের সাঁকতোড়িয়া, সিসিএএলের রাঁচি এবং বিসিসিএল ধানবাদে কয়লা উত্তোলনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইসিএলের কয়েকটি এলাকায় কিছু বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, পশ্চিম বর্ধমানে হরতালে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

কয়লা শ্রমিকদের ৩ দিনের হরতাল কর্মসূচি বিজেপি সরকারের অবস্থান বিরোধী। এতে সমর্থন দিয়েছে সিটু, আইএনটিইউসি, এআইটিইইসি-সহ ২০টি বাম-ডান কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন। এই হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে শ্রমিক শাখা বিএমএস।

হরতালে অংশ নেওয়া শ্রমিক সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সম্পদ কয়লা বেসরকারি হাতে তুলে দিতে চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। দেশের সম্পদ রক্ষা করতেই এই হরতাল কর্মসূচি। নিলামে চলে যাওয়ায় কয়লা সম্পদ কর্পোরেট সংস্থার মুনাফা বাড়াবে। জাতীয় সম্পদের সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকতেই হবে।

১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে দেশের কয়লাখনি জাতীয়করণ করে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। এরপর যখনই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ক্ষমতায় এসেছে তখনই কয়লাসহ দেশীয় সম্পদের বাণিজ্যিকীকরণে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

টিটিএন/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]