হাওরে পানি কমলেও ধানের আশা ছেড়ে দিচ্ছেন কৃষকরা
মৌলভীবাজারে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে জেলার হাজারো হেক্টর পাকা বোরো ধানের ফসল। হাওর এলাকায় নিমজ্জিত পাকা ধানের আশা ছেড়েই দিয়েছেন কৃষকরা। এসব জমিতে ধান পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে ঢলের পানিতে প্লাবিত হওয়া নন হাওর এলাকা থেকে পানি কমে এসেছে। পানি কমলেও বেশিরভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
হাওর এলাকার কৃষকরা জানান, তেল সংকটের কারণে আধুনিক কৃষিযন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে চলতি মৌসুমে ধান কাটা যায়নি। যদি এ মেশিন দিয়ে ধান কাটা যেতো, তাহলে এত ক্ষতি হতো না। আবহাওয়া অফিসের আগাম সতর্কবার্তা দেখে ধান কাটা যেত। তীব্র শ্রমিক সংকট থাকায় বেশিরভাগ ধান হাওরে রয়ে গেছে। জেলায় কমপক্ষে ২৫-৩০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওর এলাকায়। নন হাওর এলাকায় চাষ করা হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে হাওর ও নন হাওর এলাকা মিলে ৪৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে একদিনে ডুবলো ৬০০ হেক্টর জমির ধান, রয়েছে বন্যার শঙ্কা
সরেজমিনে জেলার কেওলার হাওর, কাউয়াদিঘি হাওর ও হাকালুকি হাওরে দেখা যায়, হাওরের ওপরের অংশে পানি কিছুটা কমে গেলেও বেশিরভাগ ধান পানিতে নিমজ্জিত। পানি কমে যাওয়া অংশ থেকে কিছু সংখ্যক কৃষক কষ্ট করে নৌকা দিয়ে ধান কাটছেন। তবে বেশিরভাগ কৃষক ধান কাটতে পারছেন না।

কেওলার হাওরের কৃষক শামিম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ধান আরও দুই সপ্তাহ পর কাটার উপযোগী হবে। এর আগেই পানিতে ডুবে গেছে। পানি কমার পর ধান আর খুঁজে পাবো না।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলায় ৮৬৯ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বর্তমানে অনেক স্থান থেকে পানি কমে গেছে। কৃষকরা ধান কাটতে পারছেন।
এম ইসলাম/এসআর/জেআইএম