নাগোরনো-কারাবাখে বন্দী হত্যা, যুদ্ধাপরাধের তদন্ত দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৮ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২০

বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী ও জাতিগত আর্মেনিয়ানদের মধ্যে চলতে থাকা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটন হওয়ার কিছু ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।

একটি মেসেজিং অ্যাপে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা দুই আর্মেনিয়ান আজারি সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন।

আরেকটি ভিডিওতে ওই দুই আর্মেনিয়ান নাগরিককে হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করতে দেখা যায় আজারবাইজানের সেনাবাহিনীকে।

নিহত দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে আর্মেনিয়ার কর্তৃপক্ষ। ইউরোপের মানবাধিকার পরিস্থিতি নজরদারির কাজে নিয়োজিত শীর্ষ সংস্থা কাউন্সিল অব ইউরোপ নিশ্চিত করেছে যে তারা ভিডিওটি হাতে পেয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করবে।

ককেশাস পর্বতমালার অঞ্চলটিতে ২৭ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। তারপর থেকে দুই পক্ষের যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক সহ কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে।

ওই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত হলেও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ করে জাতিগত আর্মেনিয়ানরা। ১০ অক্টোবর প্রথম দফায় এবং ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হলেও সংঘাত অব্যাহত থাকে। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়ছে ভুয়া ভিডিও
দুই পক্ষের সেনাবাহিনীই যুদ্ধবন্দী এবং প্রতিপক্ষের সৈন্যদের মরদেহের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে বলে দেখা গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধবন্দীদের আঘাত বা হত্যা করার যে ভিডিওগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো থেকে মাত্র দুটি ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পেরেছে বিবিসি।

টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আজারবাইজানের একজন যুদ্ধবন্দীকে এক আর্মেনিয়ান সেনার দ্বারা গুলিবিদ্ধ হতে দেখা যায়। কিন্তু ওই ভিডিওটি আসলে রাশিয়ার একটি ভিডিও, যেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ২০১৩ সালে প্রথমবার শেয়ার করা হয়েছিল।

বিবিসি যে ভিডিও দুটি যাচাই করতে পেরেছে, সেগুলো টেলিগ্রামে আজারবাইজানের সমর্থক একটি নামহীন রুশ চ্যানেলে গত সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়েছিল।

ভিডিওতে কী রয়েছে?

প্রথম ভিডিওতে দু'জন আর্মেনিয়ান নাগরিককে বন্দী করার চিত্র দেখা যায়। ভিডিওতে আজারবাইজানের বাচনভঙ্গিতে রুশ ভাষায় আদেশ দিতে শোনা যায় এক ব্যক্তিকে। তিনি বন্দীদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিচ্ছিলেন।

প্রথম ভিডিওর পরপরই দ্বিতীয় ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ওই দুই বন্দীকে হত্যার দৃশ্য দেখা যায়।

দু'জন বন্দীর হাত পিছমোড়া করে বাঁধা ছিল এবং তাদের শরীর আর্মেনিয়া ও অস্বীকৃত অঞ্চল নাগোর্নো-কারাবাখের পতাকায় আবৃত ছিল। তারা ছোট একটি দেয়ালের ওপর বসে ছিল। ওই পর্যায়ে আজারবাইজানি ভাষায় কেউ একজন নির্দেশ দেয়, তাদের মাথায় তাক করো।

এরপর একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায় এবং দুই বন্দীকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়।

ভিডিও ভুয়া দাবি আজারবাইজানের

বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে দুই ভিডিওতেই নির্দেশ প্রদানকারী ব্যক্তি আঞ্চলিক বাচনভঙ্গিতে কথা বলা আজারবাইজানি নাগরিক। আর প্রথম ভিডিওতে দেখতে পাওয়া বন্দীদেরই দ্বিতীয় ভিডিওতে হত্যা করা হয়।

আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিডিওগুলোকে ভুয়া হিসেবে দাবি করেছে এবং এই ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে উস্কানি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে। ভিডিও ক্লিপগুলো অবশ্য প্রকাশিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সরিয়ে নেয়া হয়।

পরদিনই আজারবাইজানের প্রসিকিউটর জেনারেল ঘোষণা দেন, ভিডিওগুলো যে ভুয়া, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন তারা।

এসআইএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]