আলোচনা ব্যর্থ, দিল্লি ঘেরাওয়ে আরও কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৩ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

কৃষকদের কাছে কমিটি গঠন করে কৃষি আইন নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলো সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। দিল্লি ঘেরাও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন আরও কৃষক।

কৃষকরা বলছেন, এটা সময় নষ্ট করার একটা প্রয়াস ছাড়া আর কিছু নয়। সরকারকে নতুন কৃষি আইন আগে বাতিল করতে হবে।

এ ছাড়া ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য নিয়ে আইন করতে হবে, যাতে বেসরকারিভাবে যারা কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনেন, তারা এই আইন মানতে বাধ্য থাকেন।

সরকার অবশ্য কোনো দাবি মানার ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে কৃষক নেতাদের সঙ্গে মোদি সরকারের তিন মন্ত্রীর আলোচনা ব্যর্থ হলো। আগামী বৃহস্পতিবার আবার বৈঠক হবে বলে জানানো হয়েছে।

কৃষকরা এখনো দিল্লি ঘিরে বসে আছেন। দিল্লি ঢোকার আরও একটি রাস্তা বুধবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দল ভারি করতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে আরও কৃষক এসে পৌঁছেছেন, পথে আছেন অনেকে।

দিল্লির সীমানায় ট্রাক, ট্র্যাক্টর, অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কৃষকরা বিক্ষোভ-অবস্থান কর্মসূচি করছেন। তাদের সঙ্গে দুই মাসের খাবার রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে নিজেদের খেতের খড়। সড়কেই রান্না হচ্ছে। আর রাতে ট্র্যাক্টরের উপর খড় বিছিয়ে তারা শুয়ে পড়ছেন। দিল্লির এই প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও কেউ শুচ্ছেন রাস্তাতেই।

jagonews24

উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কেরালা ও রাজস্থান থেকে আসা কৃষকরা এভাবেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষকদের এই প্রতিবাদের মুখে পড়ে সরকার আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে।

কিন্তু বিজেপিশাসিত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখন কোনোভাবে কৃষকদের আন্দোলন বন্ধ করার ও সময় নষ্টের মনোভাব নিয়েছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। তাই তারা সরকারের ওপর চাপ বিন্দুমাত্র কম করতে রাজি নন।

বুধবার উত্তরপ্রদেশ থেকে কৃষকদের একটা বড় দল এসে দিল্লি ও নয়ডার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি, বাইক, স্কুটার নিয়ে যারা যাতায়াত করেন, তারা যেন ডিএনডি ফ্লাইওভার ও কালিন্দী কুঞ্জের রাস্তায় না আসেন। কারণ, সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হরিয়ানা থেকে দিল্লিতে ঢোকার দুটি রাস্তা আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে রাজধানী শহর দিল্লি ঢোকার অন্যতম প্রধান রাস্তাগুলো এখন আংশিক বন্ধ। ফলে দিল্লিতে ঢোকার তিনটি রাস্তা পুরো ও একটি আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। আর গোটা দুয়েক রাস্তা বন্ধ হলে দিল্লিতে ঢোকার অধিকাংশ প্রধান রাস্তাই বন্ধ হয়ে যাবে। দিল্লি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।

jagonews24

কৃষকরা শুধু যে দিল্লির দোরগোড়ায় এসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন এবং তাতে সারা দেশে কৃষকদের কাছে একটা সরকার-বিরোধী বার্তা পৌঁছচ্ছে তাই নয়, হরিয়ানা ও রাজস্থানে এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে।

মোদি সরকার যদি কৃষকদের দাবি না মানে এবং তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে তা হলে হরিয়ানায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার পড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

হরিয়ানায় বিজেপির জোট সরকার। জোটে আছে দুষ্মন্ত চৌটালার দল। দুষ্মন্ত ও তার দল মূলত কৃষক ও বিশেষ করে জাঠদের সমর্থনে জিতেছে। জাঠেরা পুরোপুরি এই আন্দোলনে নেমে পড়েছে। ইতোমধ্যে হরিয়ানার দুই নির্দল বিধায়ক সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

চৌটালার ওপর চাপ প্রচণ্ড বাড়ছে। তিনি এখনো মুখ খোলেননি। কিন্তু অজয় চৌটালা দাবি করেছেন, ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্যকে আইন করে বাধ্যতামূলক করতেই হবে।

রাজস্থানে বিজেপির শরিক হনুমান বেনিওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন, কৃষকদের দাবি মানতেই হবে। আর তা না হলে, কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে। কৃষকদের প্রতি মোদি সরকার যে ব্যবহার করেছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ তিনি। আর সেই ক্ষোভ তিনি গোপনও রাখেননি। ফলে বিজেপির শরিক দলগুলোর মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে।

বিরোধী দলগুলোও কৃষকদের পাশে থেকে সরকারকে আক্রমণ করছে। কংগ্রেসের লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন, ‘মোদি সরকারকে ধিক্কার জানাই। তারা কৃষকদের প্রতি যে সংবেদনহীন ব্যবহার করেছে, তা ভাবা যায় না। কৃষকরা কৃষি আইনের বিরোধিতা করছেন। আমরা সকলে তাদের পাশে আছি।’

বামপন্থী দলের কৃষক সংগঠনও এই বিক্ষোভে সামিল। তাদের ছাত্র ও যুব সংগঠনও কৃষকদের সঙ্গে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। যোগেন্দ্র যাদবের স্বরাজ পার্টিও বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। কংগ্রেসও এই বিক্ষোভকে পুরোপুরি সমর্থন করছে। বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে একজোট হয়ে আন্দোলনে নেমে পড়ছে বিরোধী দলগুলোও।

এসএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]