বৃষ্টির মধ্যে মাকে প্লাস্টিকে মুড়ে রাস্তায় ফেলে গেল মেয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

বয়স হয়েছে, কুঁচকে গেছে শরীরের চামড়া, বেঁকে গেছে শরীর। এমন অবস্থায় সাধারণত প্রাণপ্রিয় সন্তানের ওপর ভরসা করে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে চান মা-বাবারা। বয়স আশির কাছাকাছি ঠাকুরদাসী সাহারও হয়তো সাধ ছিল এরকমই। কিন্তু শেষটা সুখের হলো না তার। নিজের মেয়েই প্লাস্টিকে মুড়ে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় ফেলে গেছে এ বৃদ্ধাকে। আর সেই কষ্ট নিয়েই পরপারে পাড়ি জমাতে হয়েছে তাকে। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, বরানগরের সিঁথি থানা এলাকার এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেছে চারদিকে। অভিযুক্ত মেয়েকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন প্রতিবেশীরা।

জানা যায়, গত বুধবার বেলা সামান্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশভেঙে বৃষ্টি শুরু হয় কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায়। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিটি রোডের বিস্তীর্ণ অংশ। আর এমন দুর্যোগের মধ্যেই বৃদ্ধা মায়ের প্রতি চরম অমানবিকতা দেখায় মেয়েটি। পেয়ারাবাগান এলাকার বাসিন্দা ঠাকুরদাসী সাহাকে প্লাস্টিকে মুড়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুই যুবক।

বৃষ্টির দাপটে সেসময় রাস্তা প্রায় জনশূন্য। তবে রাতের দিকে ধীরে ধীরে বৃষ্টি কমলে দু-একজনের চোখে পড়ে প্লাস্টিকমোড়া বৃদ্ধাকে। তবে তাকে মৃত মনে করে পাশ কাটিয়ে চলে যান অনেকেই। এর কিছুক্ষণ পর খবর যায় সিঁথি থানার পুলিশের কাছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, বৃদ্ধা তখনো জীবিত। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃদ্ধার কাছ থেকেই পুলিশ জানতে পারে তার নাম-ঠিকানা। জানা যায়, মেয়ের নির্দেশেই দুই যুবক তাকে বৃষ্টির মধ্যে ড্রেনের কাছে ফেলে গেছে। কিন্তু কেন এভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হলো তা বলতে পারেন না বৃদ্ধা।

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতাল থেকে ঠাকুরদাসী সাহাকে ফের বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বৃদ্ধার মৃত্যুর জন্য প্রতিবেশীরা তার মেয়েকে দুষছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো অভিযুক্তদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: দ্য ওয়াল, সংবাদ প্রতিদিন

কেএএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]