নোবেলজয়ী রুশ সাংবাদিকের সঙ্গে পুতিনের ‘শীতল লড়াই’
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য দুঃসাহসিক লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন দুই সাংবাদিক। তাদেরই একজন রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতভ। নোবেল জিতে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সাহসী এ সাংবাদিক। অথচ তার নিজ দেশের সরকারপ্রধানই এ বিষয়ে ছিলেন শুরু থেকে নীরব। তবে শেষপর্যন্ত মুখ খুলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর যা বলেছেন, তা রীতিমতো প্রচ্ছন্ন হুমকি হয়ে থাকবে নোবেলজয়ী সাংবাদিকের জন্য।
রাশিয়ার ‘ফরেন এজেন্ট আইন’ নিয়ে অনেকদিন থেকে বিতর্ক চলছে। ২০১২ সালে পাস হওয়া এই আইনের অপব্যবহার করে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীদের জেলে ঢোকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ‘ফরেন এজেন্ট’ ঘোষণা করে কাজ থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। বিদেশ থেকে অর্থ গ্রহণ করলেই ফরেন এজেন্টের অভিযোগ করা হচ্ছে। এগুলো নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছিলেন নোবেলজয়ী সাংবাদিক মুরাতভ।
বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, নোবেল পুরস্কারের অর্থ নিলে তাকেও কি ফরেন এজেন্ট ঘোষণা করা হবে? পাশাপাশি এ-ও বলেছিলেন, সরকার চাইলে যা ইচ্ছা করতে পারে। তিনি পুরস্কারের অর্থ নেবেনই।
Nobel Peace Prize winner Dmitry Muratov won't be branded a 'foreign agent' if he follows Russian law, President Putin tells me in Moscow today pic.twitter.com/GPfKduiygE
— Hadley Gamble (@_HadleyGamble) October 13, 2021
নোবেলজয়ীর এই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। বুধবার (১৩ অক্টোবর) মস্কোয় এক অনুষ্ঠানে পুতিন বলেছেন, তিনি (মুরাতভ) যদি রাশিয়ার আইন লঙ্ঘন না করেন, ফরেন এজেন্ট ঘোষণার মতো কোনো কারণ না দেখান, তাহলে ঘোষণা হবে না।
এরপরই কিছুটা হুঁশিয়ারির সুরে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, মুরাতভ যদি আইন লঙ্ঘন করতে নোবেল পুরস্কারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, তার মানে তিনি অন্য কোনো কারণে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সেটি ইচ্ছা করেই করছেন। এমন হলে তিনি ভুল করবেন। যে অর্জনই থাকুক না কেন, রাশিয়ার সবাইকে আইন মানতে হবে।
এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা এবং রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতভ। নিজের এই অর্জন নিহত পাঁচ সাংবাদিককে উৎসর্গ করেছেন মুরাতভ।
এ সাংবাদিক আরও বলেছেন, তিনি প্যাস্টারনক নন। ১৯৫৮ সালে সাহিত্য নোবেল পেয়েছিলেন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের লেখক বরিস প্যাস্টারনক। কিন্তু সরকারের চাপে সেই পুরস্কার ফেরত দিতে হয়েছিল তাকে। কিন্তু দিমিত্রি মুরাতভ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের চাপে নোবেল ফেরত দেওয়ার কাজ তিনি করবেন না।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, ডয়েচে ভেলে
কেএএ/জিকেএস