ফিনল্যান্ড কেন বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৪ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

টানা চার বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ফিনল্যান্ড। কিন্তু বৈশ্বিক নানা জটিলতার মাঝেও কিভাবে দেশটি এই অবস্থান টিকিয়ে রেখেছে তার রহস্য খোলাসা করলেন প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন নিজেই।

ফিনল্যান্ডের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড এবং তিনি এটি ধরে রাখতে চান। সচরাচর ক্যামেরার সামনে কথা বলেন না সানা। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এবার নিজের দেশের অবস্থান তুলে ধরলেন তিনি।

সানা মারিনের মতে, সমতা, একটি ভাল অর্থায়নজনিত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র, এসবই ফিনল্যান্ডের বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হওয়ার পেছনে গোপন বিষয়।

সানা মারিন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিনল্যান্ডের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন মাত্র ৩৪ বছর বয়সে। ২০১৯ সালে নরডিক জাতির প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

সানা বলেন, ফিনল্যান্ড ‘পরিবেশগতভাবে টেকসই উপায়ে’ উদার সমাজ ব্যবস্থা সংরক্ষণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং সবুজ প্রযুক্তির বিকাশ ও রপ্তানিকে তার ভবিষ্যত সমৃদ্ধির চাবিকাঠি হিসেবে দেখেছে।

তিনি আরও বলেন, সমতার ক্ষেত্রে আরও ভালো করতে চেয়েছিলেন তিনি। চলতি বছর এপ্রিলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক ১০টি পয়েন্টে তাদের মতামত জানাতে বলে।

৫৫ লাখ মানুষের দেশে সানা মারিন করোনা খুব ভালভাবেই সামাল দিতে পেরেছেন। দেশটিতে করোনাভাইরাসের কারণে মাত্র ১৩শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে যা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কমই বলা যায়। কিন্তু করোনা মোকাবিলায় সফলতা থাকলেও তার পাঁচদলীয় জোটের মধ্যে ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে - যার নেতৃত্বে নারীরাও রয়েছেন।

ফিনল্যান্ডের ন্যাশনাল পাবলিক ব্রডকাস্টিং কোম্পানি ওয়াইএলই গত সপ্তাহে এক ভোটাভুটির জরিপের পর দেখায় যে বিরোধী উদারপন্থী-রক্ষণশীল ন্যাশনাল কোয়ালিশন পার্টি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে রয়েছে। এর পরেই রয়েছে ডানপন্থী পপুলিস্ট ফিনস পার্টি এবং তৃতীয় স্থানে মেরিন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট।

সম্প্রতি ফিনল্যান্ড থেকে আটশ মাইল দূরে বেলারুশ-পোল্যান্ড সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশী সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একে ‘হাইব্রিড অ্যাটাক’ বলছে। পোল্যান্ড, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া যখন অভিযোগ করছে অনুপ্রবেশের তখন মারিন বলছেন, সীমান্তে কোনো সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, আমরা বলতে চাইছি, এটি গ্রহণযোগ্য নয়। বেলারুশের কার্যক্রমের নিন্দা জানান তিনি। একই সঙ্গে সীমান্তে অবস্থান করা মানুষদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে।

ভবিষ্যতে সরকার গঠন অব্যাহত থাকলে তিনি কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিজ দল ও বিরোধীদের মধ্যে সমতা নিশ্চিত করবেন এবং বৈষম্য কমাবেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি আমরা সব সময় ফিনল্যান্ডে সমতায়নের কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা নয় বা লিঙ্গ সমতা নয় বরং এটি সমাজের ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে কাঠামোগুলো মানুষের জন্য যেন বাধা হিসেবে কাজ না করে। তাই অনেক কিছু করার আছে।

সম্প্রতি দেশটিতে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সবার জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একটি নতুন অভিভাবকীয় ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে যা, আগামী আগস্টে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ছুটির আওতায় মা এবং বাবারা তাদের ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে বাড়িতে একই পরিমাণ সময় কাটাতে পারবেন।

মারিন ফিনল্যান্ডে গৃহহীনতার অবসান ঘটাতে তার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। হাউজিং পদ্ধতি অ্যাপ্রোচ রাস্তার পাশে গৃহহীন হ্রাস করতে কাজ করছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এটি লক্ষ্যে পৌঁছাবে।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদদের কাছে এই মডেল আকর্ষণীয়। ২০১৮ সালে এটি নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হলেও আগামী বছর শেষ হতে যাচ্ছে।

মারিন বলেন, হাউজিং প্রজেক্টে দীর্ঘ-মেয়াদী বিনিয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেটি এখনও কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা এখনও বড় শহরগুলো নিয়ে সমস্যায় আছি। এখনও লোকজন গৃহহীন আছেন। তবে আমরা উন্নতি করছি। তিনি বলেন, হাউজিং ফার্স্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল। তবে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতিতে আরও সমাধান দরকার, সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও রয়েছে এবং চাকরির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সুযোগ দরকার।

মারিন বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা মানুষের সঙ্গে সম্পূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে আচরণ করছি কিনা।

ইইউর ১৫ বছরের টার্গেটে ফিনল্যান্ডও ২০৩৫ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতায় পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মারিন বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলা যখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন ফিনল্যান্ডের কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় সুযোগ।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমনভাবে কাজ করতে চাই যা সাধারণ মানুষের উপকারে আসে। তিনি বলেন, একটি কল্যাণমূলক সমাজ খুবই জরুরি যেখানে আমার মতো অনেকেই অধ্যয়নের সুযোগ পাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে, নিজের ভবিষ্যত নিজেই তৈরি করতে পারবে।

সানা মারিন বলেন, আমি মনে করি, আমাদের সমাজকে নির্মাণ করতে যারা কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে এখন আমাদের সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

এসএনআর/টিটিএন/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]