ঘাতক অধরা : পড়ে আছে দুমড়ানো মুচড়ানো প্রাইভেটকার


প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৬

রাজধানীর খিলক্ষেত থানা সংলগ্ন সিএনজি গ্যাস পাম্পের ঠিক উল্টোদিকে রাস্তার উপর দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে একটি গোল আকৃতির প্রাইভেটকারের ধ্বংসাবশেষ।

প্রথম দৃষ্টিতে মনে হবে এ যেন কোনো সিনেমা হলে ইংলিশ মুভিতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে প্রাইভেটকার ধ্বংসের পরবর্তী দৃশ্য।

motor

গাড়িটির বনেট, দরজা, সিট, স্টিয়ারিং ও চাকা ইত্যাদি যেভাবে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে তাতে যে কারো বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে এটি কয়েকদিন আগেও একটি দামি প্রাইভেটকারই ছিল!

থানার পাশের বিমানবন্দরগামী বড় ও থানা সংলগ্ন ছোট রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ছোটবড় সবার চোখেই পড়ছে গাড়িটির ধ্বংসাবশেষ। তাদের মুখে প্রশ্ন গাড়িটির এমন বেহাল দশা কীভাবে হলো?

motor

কৌতূহলবশত সামনে এগিয়ে খিলক্ষেত থানার গেটে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গাড়িটির এমন অবস্থার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে ব্রেক ফেল করা একটি বড় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাসকে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা মারলে ওই বাসটি প্রাইভেটকারটির উপর উঠে যায়।

এতে শিশুসহ পাঁচ-ছয়জন ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানান তিনি।  তিনি আরো জানান, গাড়ির চালক পালিয়ে গেলেও হেলপার আটক আছে। বিস্তারিত জানতে হলে হেলপারের  সঙ্গে  কথা বলে দেখতে পারেন।

motor

ছেলেটির নাম তাজু। ঢাকা ময়মনসিংহ রুটে চলাচলকারী এনা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪ ..৫৯৪) হেলপার হিসেবে চাকরি করতো। তাজু জানায়, সেদিন (সম্ভবত ২৫ মার্চ) খিলক্ষেত ওভারব্রিজের সামনে আসার ৩০ সেকেন্ড আগে ড্রাইভার হাসান তাকে দ্রুত কাছে ডেকে গাড়ির ব্রেক ফেল করেছে বলে জানায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই যাত্রীসহ গাড়িটির দুই চাকা ব্রিজের ডানপাশের আইল্যান্ডে উঠে চলতে থাকে। হঠাৎ করে ড্রাইভার স্টিয়ারিং ঘোরাতেই তাদের গাড়িটি সামনের একটি বাসে (তেতুলিয়া পরিবহন ঢাকা মেট্রো ব ১১..৮২৩৯) ধাক্কা মারলে বাসটি বিকট শব্দে সামনে থাকা ওই প্রাইভেটকারের ওপর উঠে যায়।

খিলক্ষেত এলাকায় মাইক্রোবাস গাড়ির এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গাড়িটির ভেতর থেকে একবার কিছু মানুষের কণ্ঠ শোনা যায়। তারপর সব চুপচাপ। লোকজন ছুটে গিয়ে দেখে বাসটি গাড়িটিকে চাপা দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। রক্তে রাস্তা ভেসে যাচ্ছে।

ওই ব্যবসায়ী আরো বলেন, যতদূর জানি ড্রাইভার এখনও ধরা পড়েনি। পত্রপত্রিকায় শুধু দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর বেরিয়েছে। কিন্তু কী মর্মান্তিকভাবে নিরপরাধ লোকগুলোর মৃত্যু হলো তা কেউ জানেন না।
 
motor

সামনে গিয়ে দেখা গেল দুমড়ানো-মুচড়ানো গাড়ির ভেতর এখনও রক্তের দাগ। স্থানীয় একজন জানান, গত দু`দিনের বৃষ্টিতে রক্ত অনেক ধুয়ে গেছে। কী পরিমাণ রক্ত ছিল তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টকর হবে।
 
হেলপার তাজু জানায়, পুলিশ তাকে গত কয়েকদিন ধরে বাসের ভেতরই আটক রেখেছে। বাস মালিকের লোকজন তাকে এসে খাবার দিয়ে যায়। প্রাকৃতিক কাজকর্মের সময় ছাড়া তাকে বাস থেকে নামতে দেয়া হয় না বলেও জানায় তাজু।

এমইউ/এসকেডি/এনএফ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।