কর ফাঁকির নথি ফাঁস : ভারতীয়দের বিরুদ্ধে তদন্ত
বিদেশে বিনিয়োগের নামে কর ফাঁকি দেওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভারতের পাঁচ শতাধিক নাগরিকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির বিশেষ তদন্ত সংস্থা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি)। দেশটির তিন সরকারি সংস্থাকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পানামার আইনি প্রতিষ্ঠান মোওস্যাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া ১ কোটি দশ লাখ গোপন নথিতে বিশ্বের আলোচিত ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে। অর্থ পাচার, ট্যাক্স এবং বিভিন্ন রকম নিষেধাজ্ঞাকে ফাঁকি দিতে মোওস্যাক চার যুগেরও বেশি সময় ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছে।
পানামা পেপার্সে প্রকাশিত খ্যাতনামা ও প্রভাবশালী ভারতীয়দের মধ্যে অমিতাভ বচ্চন, তার পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, কেপি সিং, ইন্ডিয়াবুলসের মালিক সমীর গেহলাউত, মুম্বইয়ের গ্যাং লর্ড হিসেবে পরিচিত মৃত ইকবাল মিরচি, গৌতম আদানির ভাই বিনোদ আদানিসহ আরো অনেকের নাম উঠে এসেছে। 
বিদেশে পাচার হওয়া ভারতের কালো টাকা খুঁজে বের করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করে এসআইটি। এসআইটি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি অরিজিত প্রসাদ বলেছেন, ফোনসেকার গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের অর্থনৈতিক আইন বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি বিরোধী বিভাগ এনফোর্সমেন্ট ডিরক্টরেট (ইডি), আয়কর বিভাগ এবং রাজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি অরিজিত প্রসাদ বলেন, তদন্তের আগে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর যাচাই করা দরকার। ভারত সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে কাগজপত্র না পাওয়া পর্যন্ত সিআইটি কোনো তদন্ত শুরু করতে পারে না বলেও জানান তিনি।
দেশটির অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক ও ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসআইএস/পিআর