চাকরি না খুঁজে ব্যবসা শুরু করেছি

আরিফুল ইসলাম আরমান
আরিফুল ইসলাম আরমান আরিফুল ইসলাম আরমান
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৯

জিনাত জাহান নিশা একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) চারুকলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। পড়াশোনা শেষে চাকরি না খুঁজে ব্যবসা শুরু করেন। অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন হাউস ‘বিজেন্স’ তার একটি স্বপ্নীল উদ্যোগ। এ উদ্যোগের গল্প জানাচ্ছেন আরিফুল ইসলাম আরমান-

কীভাবে এ উদ্যোগ নিতে আগ্রহী হলেন?
জিনাত জাহান নিশা: পড়াশোনা শেষ করে প্রফেশন হিসেবে কী নেব- এ কথা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভাবতাম। তখন এটি মাথায় আসতো না যে, আমাকে চাকরি করতে হবে। বরং এমন কোনো পেশায় আমি থাকবো, যেখানে আমি স্বাধীন। আমার স্বাধীন ইচ্ছা, রুচি নিয়েই কাজ করবো- এমনটাই ভাবতাম। সে ভাবনা থেকেই বিজেন্স নিয়ে কাজ করা।

শুরুটা কীভাবে করলেন?
জিনাত জাহান নিশা: ২০০৯ সালে একটি নামিদামি গিফট শপে আমরা চার ভাই-বোন হাতে আঁকা কার্ড, হাতে বানানো গয়না সেল করেছিলাম। সেটি গিফট শপের আগ্রহে করেছিলাম। তখনই বড় বোন বিজু হাতে আঁকা কার্ডগুলোর পেছনে চার ভাই-বোনের নামের প্রথম বর্ণ নিয়ে ‘বিজেএনএস’ লিখে দিয়েছিল। ২০০৯ সালে বিজেন্সের ভাবনা, নামকরণ করি আমরা। নামটি নিয়ে আমরা প্রফেশনালি কাজে নামি ২০১৪ সালে।

কোনো প্রতিবন্ধকতা এসেছে কি-না?
জিনাত জাহান নিশা: প্রতিবন্ধকতা বলতে কাজ করতে গিয়ে কারখানা, কারিগর, যোগাযোগ, উপকরণের সোর্স খুঁজে পাওয়া এসব নানান বিষয়ে হোঁচট খেতে খেতে শেখা ছাড়া সে অর্থে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হইনি।

nisha-in-1

বিজেন্সের পোশাকে মডেল

কীভাবে এগিয়ে গেলেন?
জিনাত জাহান নিশা: সবার ভালোবাসা, সাধুবাদ, কখনো গঠনমূলক সমালোচনায় বিজেন্স ধীরে ধীরে অভিজ্ঞ হচ্ছে। প্রায় চার বছরের পথ চলাটা মসৃণ নয়। কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা মোকাবেলা করাও একটা অভিজ্ঞতা। এ অভিজ্ঞতাই আমাদের আরও শিখতে সহায়তা করছে। এভাবে চলছে আমাদের বিজেন্স।

বর্তমান অবস্থা কী? সফলতা-ব্যর্থতার কথা যদি বলেন-
জিনাত জাহান নিশা: নিজের কাজে নিজে শতভাগ সন্তুষ্ট নই। এখনো অনেক কাজ বাকি। এমন অনেক কাজের সোর্স আমরা মনমত পাইনি, এরকম হচ্ছে। আমাদের মত করে কাজ বুঝবেন- এমন তাঁতি আমরা এখনো পাইনি। তবু আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চটা দেওয়ার।

প্রচারণার ক্ষেত্রে কী করছেন?
জিনাত জাহান নিশা: ব্যক্তিগত জীবন, থিয়েটার, বিজেন্স। সবকিছু পাশাপাশি চলছে। এতকিছুর ভিড়ে মনে হয় প্রচার-প্রচারণার জন্য যতটা আয়োজন করা উচিত, সে জায়গায় আরো বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার। কারণ আমরা দেশি উদ্যোক্তারা দেশীয় উপকরণে কাজ করছি। কীভাবে করছি- এটা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার।

nisha-in

 

আগামীতে পরিকল্পনা কী?
জিনাত জাহান নিশা: আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে আমরা ভীষণ আসক্ত। বিয়ে, বড় অনুষ্ঠান, দিবস, পূজা, ঈদসহ যে কোন উৎসবে আমরা ভিন্ন সংস্কৃতি, ফ্যাশন অন্ধের মত অনুকরণ করি। এ মানসিকতার পরিবর্তন খুব প্রয়োজন। দেশে কত ভালো কাজ হয়, কত ভালো নকশা, নকশাকার রয়েছেন- এটা আমরা অনেকেই বুঝতে চাই না। আমাদের দেশীয় উদ্যোগ কতটা সমৃদ্ধ- বিষয়টির সাথে আমরা কাজের মাধ্যমে পরিচয় ঘটাতে চাই। সে লক্ষে কাজ করছি।

ভবিষ্যতে আপনার প্রতিষ্ঠানকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?
জিনাত জাহান নিশা: দেশীয় উদ্যোগ কতটা সমৃদ্ধ ও ফ্যাশনেবল হয়ে উঠতে পারে- এ ভাবনা সবার ভেতর গেঁথে দিতে চাই। কোন একদিন বিজেন্সের আউটলেট হবে- এ ইচ্ছা নিয়ে কাজ করছি।

নতুন যারা এ ব্যবসায় আসতে চান, তাদের কী করা উচিত?
জিনাত জাহান নিশা: আমি নিজেও এখনো নতুন। তবুও আমি একদমই নতুনদের জন্য বলবো- পরিশ্রম, পরিশ্রম এবং পরিশ্রম করতে হবে। লেগে থাকতে হবে নিজের পরিশ্রম বাস্তবায়নে। সৎ থাকতে হবে নিজের কাছে।

এসইউ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]