প্রথম বিসিএসেই পুলিশ ক্যাডার স্বাগতা

মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার
মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার , লেখক
প্রকাশিত: ১২:৫৩ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২০

স্বাগতা ভট্টাচার্য্য ৩৪তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ ক্যাডারে আছেন। বাবা সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য, মা ছবি রানী মৈত্র। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর গ্রামে স্বাগতার জন্ম। নওগাঁর জাহাঙ্গীরপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।

সম্প্রতি তার বিসিএস জয়, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন জাগো নিউজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার—

ছোটবেলা কেমন কেটেছে?
স্বাগতা ভট্টাচার্য্য: আমি ছোটবেলা থেকেই খুব শান্ত স্বভাবের ছিলাম। স্কুল, কলেজে পড়াকালীন কবিতা আবৃত্তি, নাচ, উপস্থিত বক্তৃতা ও উপস্থিত রচনা লেখায় পারদর্শী ছিলাম। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতাম। এক্ষেত্রে অনেক অর্জন রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরস্কার অর্জনের কৃতিত্বও রয়েছে আমার। বলা যায়, সাংস্কৃতিক আবহে আমার বেড়ে ওঠা।

in

পড়াশোনায় কোন প্রতিবন্ধকতা ছিল কি?
স্বাগতা ভট্টাচার্য্য: পড়াশোনায় প্রতিবন্ধকতা ছিলো না বললেই চলে। কারণ আমার মা-বাবা শিক্ষকতা করতেন। ফলে তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। আমার পড়ালেখা নিয়ে তাদের সহযোগিতা আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
স্বাগতা ভট্টাচার্য্য: অনার্স পড়াকালীন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার তাড়না আমার মধ্যে কাজ করতো। সেভাবে আমি নিজের প্রস্তুতি নিতে থাকি। স্বপ্ন দেখা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এবং তার বাস্তবায়নে অনার্স পড়াকালীন আমার প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া।

in

বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই—
স্বাগতা ভট্টাচার্য্য: অনার্সে যখন ছিলাম; তখনই ভেবেছিলাম বিসিএস দেব। অনার্স পড়াকালীন যদিও একাডেমিক পড়ালেখার চাপ থাকায় পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে অনার্স শেষ করে বিসিএস পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণভাবে নিজেকে মনোনিবেশ করি। পুলিশ ক্যাডারে থেকে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ ও সম্ভাবনা বেশি। তাই পুলিশ ক্যাডারের প্রতি আমার দুর্বলতা ছিল। নিজের স্বপ্নপূরণে ৩৪তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার প্রথম পছন্দ দেওয়া। ফলে প্রথম বিসিএস দিয়েই আমার স্বপ্নপূরণ হয়।

কারো কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কি?
স্বাগতা ভট্টাচার্য্য: আমার শিক্ষকদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ছিল ভালো কিছু করার। এ ছাড়া আমার মা-বাবা আমার সাফল্যের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

in

পুলিশ হিসেবে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
স্বাগতা ভট্টাচার্য্য: পেশাদারিত্বের সাথে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা আমার মূল লক্ষ্য। আমার পেশায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। আমি এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। এ ছাড়া মানবিক জায়গা থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মাঝে অসাধারণ এক তৃপ্তি পাওয়া যায়।

in

সাম্প্রতিক করোনা দুর্যোগে আপনার ভূমিকা কী?
স্বাগতা ভট্টাচার্য্য: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে একজন সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। লকডাউন চলাকালীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে নিজের গাড়ি দিয়ে প্রসূতি মাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি। এ ছাড়া রাস্তায় অসুস্থ ব্যক্তিকে নিজ গাড়ি দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছি। সাধারণ মানুষের মাঝে ১ হাজার হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক বিতরণ করেছি। বেদেপল্লি ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালনের চেষ্টা করেছি। করোনা সংকটে সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি ছুটে চলা আমার নিত্যদিনের ঘটনা।

এসইউ/এএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]