বিসিএস জয়

রিটেনের বিশাল সিলেবাস নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম: নুরুল মোস্তফা

মমিন উদ্দিন
মমিন উদ্দিন মমিন উদ্দিন , লেখক
প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নুরুল মোস্তফা বিন বশির ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে (রসায়ন) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকার আলী আকবর পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা বশির আহমদ, মা জুলেখা বেগম। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

সম্প্রতি জাগো নিউজের সঙ্গে তিনি বিসিএস জয়, ক্যারিয়ার পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মমিন উদ্দিন—

জাগো নিউজ: বিসিএস ক্যাডার পাওয়ার অনুভূতি কেমন?
নুরুল মোস্তফা বিন বশির: রেজাল্টের দিনও আমি যথারীতি টিউশনি করে বাসায় ফিরলাম। তখন সন্ধ্যা সোয়া সাতটা। আমি ধরেই নিলাম রেজাল্ট আজ আর হবে না। সাড়ে সাতটার দিকে এক সিনিয়র ভাই বললেন, ৪১তম বিসিএসের রেজাল্ট পাবলিশড হয়েছে। আমার রোল নাম্বারটা তাকে দিলাম। তিনি রেজাল্ট দেখে আমাকে বললেন, ‘তুমি শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত।’ প্রথমে বিশ্বাস হয়নি আমার। পরে নিজেই চেক করলাম তিনবার। আমি প্রথমেই সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া আদায় করলাম। ছোট আপু রেজাল্ট জানার জন্য বারবার ফোন দিচ্ছিলেন। রেজাল্ট প্রথমেই বড় ভাইকে জানিয়েছি। এরপর মা-বাবাকে, আপুদের। পরিবারের সবাই আনন্দ অশ্রু ফেলেছে! এটাই আমার জীবনের অন্য অনুভূতি!

আরও পড়ুন: ভাইভা বোর্ডে ফার্স্ট ইম্প্রেশন বেশ গুরুত্বপূর্ণ

জাগো নিউজ: পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল?
নুরুল মোস্তফা বিন বশির: পড়াশোনায় বিশেষ কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তবে আমার শিক্ষক বাবার পক্ষে একই সময়ে ছয় ভাই-বোনের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ছিল। আমার সারাজীবন স্বপ্ন ছিল, আমি একজন ডাক্তার হবো কিন্তু হতে পারিনি। সে স্বপ্নটা আমাকে সব সময় তাড়া করতো। ক্যাডার হওয়ার পর সে কষ্ট ঘুচে গেল।

জাগো নিউজ: বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
নুরুল মোস্তফা বিন বশির: আমার ফিউচার প্ল্যান ছিল উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যাবো। কিন্তু আমার পরিবারের সরকারি চাকরির ভীষণ ঝোঁক ছিল। তখন আমি আমার ফিউচার প্ল্যান থেকে মুভ করে বিসিএসের দিকে ঝোঁক বাড়ালাম। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ৪১তম বিসিএসের সার্কুলার হয়; তখন আমার এমএসসি থিসিস চলে। থিসিস এবং বিসিএসের প্রস্তুতি একসঙ্গে নিয়েছি।

জাগো নিউজ: আপনার বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই—
নুরুল মোস্তফা বিন বশির: কোভিডের লকডাউনে আমি বাড়ি চলে যাই। ছয় মাস পর ঢাকা ব্যাক করি। থিসিস, রিসার্চ এবং বিসিএস প্রস্তুতি একসঙ্গে নিতে থাকি। প্রিলিমিনারি পাস করলাম। এরপর রিটেনের বিশাল সিলেবাস নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। রিটেন প্রস্তুতিতে কঠিন পরিশ্রম করেছি। রিটেন পাস করলাম। বিসিএস ভাইভা নিয়ে ভয় পাইনি। যেহেতু আমি এর আগে পিএসসিতে নন-ক্যাডারের কয়েকটি ভাইবা ফেস করেছি। ভাইভা বোর্ডে আমি মোটামুটি সবকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হই। আমাকে ভাইভা বোর্ডে দশ মিনিট রাখা হয়েছে। তাই চূড়ান্ত রেজাল্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত ভয়ে ছিলাম। রেজাল্ট পেয়ে অনেক ভালো লাগলো।

আরও পড়ুন: হতাশ হয়েছি বহুবার কিন্তু হাল ছাড়িনি: আনিসুর রহমান

জাগো নিউজ: কারো কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কি?
নুরুল মোস্তফা বিন বশির: বিসিএস আমার স্বপ্ন ছিল না। মূলত বড় ভাই আর আপুদের অনুপ্রেরণায় বিসিএস প্রিপারেশন নেওয়া। তাদের সাপোর্ট এবং অনুপ্রেরণা আমাকে বিসিএস জার্নিতে অনেক সহযোগিতা করেছে। আমি প্রায় সময় ফার্মাতে জয়েন করতে চাইতাম কিন্তু বড় ভাই আর আপুরা বলতেন আর কিছুদিন অপেক্ষা করো।
এভাবে অপেক্ষা করতে করতে বিসিএস রেজাল্ট হয়ে গেল, আমি সফল হলাম। আমি আমার বাবা-মা, ভাই-বোন, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধবের কাছে কৃতজ্ঞ।

জাগো নিউজ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
নুরুল মোস্তফা বিন বশির: যেহেতু আমি শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। সে হিসেবে আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা দিয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। পাশাপাশি রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করা।

এসইউ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।