শতাধিক গুম-খুনের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু
আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে গুমের পর শতাধিক মানুষকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এর মাধ্যমে সাবেক এ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম ও খুনের মামলার বিচার শুরু হলো।
রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আরও পড়ুন
জিয়াউল আহসান শত শত মানুষকে পেট কেটে নদীতে ফেলে দিয়েছেন
শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে
আদেশের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া সাক্ষ্য দেবেন। তবে, জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও তার বোন নাজনীন নাহার জানান, জিয়াউল আহসান বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। যা হয়েছে তার সবই আইনগতভাবে হয়েছে।
প্রসিকিউশন জিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে। প্রথমটি হলো ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পূবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিন হত্যা।
দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। ওই সময়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।
তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ হত্যার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অর্থাৎ দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লিখিত সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া।
এসব হত্যাকাণ্ডের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন সকালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
এফএইচ/ইএ/এএসএম