চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনার পক্ষে পাঠানো চিঠি ভুয়া, জিঞ্জিরার কি না বলা যাচ্ছে না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩৮ এএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম/ ফাইল ছবি

মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তরাজ্যের এক আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান চিঠি পাঠিয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মেইলে কোনো চিঠি আসেনি বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সে ধরনের কোনো চিঠি এলে ওই আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং যাদের পক্ষে আসবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ দপ্তরে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

‘কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি’ নামের যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ বেরিয়েছে। কিংসলে ন্যাপলি এলএলপির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অফিস যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে। এটি ৮০ বছরের বেশি সময় ধরে আইনি সেবা দিয়ে আসছে।

চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বুধবার (৩১ মার্চ) জানতে পারি কিংসলে ন্যাপলি নামের একটি ‘ল ফার্ম (আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান)’ শেখ হাসিনার পক্ষে একটি চিঠি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) মেইলে এ রকম কোনো চিঠি আসেনি। কিছু সাংবাদিক কীভাবে পেয়েছেন, তা তিনি জানেন না। একজন সাংবাদিক তাকে হোয়াটসঅ্যাপে সেই চিঠির একটি কপি দিয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম জানান, সেই চিঠির কপি থেকে যেটুকু পড়েছেন, তার ওপরে অ্যাড্রেস আছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। নিচে লেখা আছে ‘ডিয়ার আইসিটি’। চিঠির প্রথম প্যারাগ্রাফে লেখা আছে, উই অ্যাক্ট অন বিহাফ অব শেখ হাসিনা (শেখ হাসিনার পক্ষে)। এটুকু পড়লেই বোঝা যায়, কত মানের ইম্যাচিউরড (অপরিপক্ব) একটা লেটার যে কীভাবে কাকে অ্যাড্রেস করতে হয়, তা তারা জানেন না।

আরও পড়ুন
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় চ্যালেঞ্জ ব্রিটিশ আইনি সেবা প্রতিষ্ঠানের 
হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে কিংসলে ন্যাপলির চিঠি আদালত অবমাননা 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের কোনো বিচারককে যদি অ্যাড্রেস করতে হয়, তাহলে কি ডিয়ার আইসিটি বলবে নাকি অনারেবল জাজ? যদি ব্রিটিশ ল’ ফার্মের পক্ষ থেকে হয়, তাহলে তাদের এটুকু জানার কথা। এটা তো মনে হচ্ছে একেবারে একটা ভুয়া চিঠি। কিংবা কোনো ভুয়া ল’ ফার্ম দেশ থেকে হচ্ছে কি না; কেরানীগঞ্জ-জিঞ্জিরা থেকে হচ্ছে কি না, তা বলা যাচ্ছে না।

এমন উড়োচিঠি আসার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের কোনো কার্যক্রম বিতর্কিত হবে না বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সম্পর্কে চিঠির মধ্যে যা বলেছে, তা কোনো ল’ ফার্মের আইনগতভাবে বলার অধিকার নেই। কারণ, শেখ হাসিনা পলাতক।

আমিনুল ইসলাম বলেন, অফিসিয়ালি যদি আমাদের কাছে এই চিঠি আসে, তাহলে আমরা মনে করি যে এই চিঠির যা ভাষা, এই চিঠির যা বক্তব্য, এটা একেবারেই আদালত অবমাননার শামিল। বরং আমরা এ জাতীয় ফার্ম, যদি অফিসিয়ালি আমাদের কাছে এই চিঠি আসে, তাহলে ওইসব ফার্মের বিরুদ্ধে, যাদের পক্ষে এ রকম চিঠি আসবে, তাদেরসহ আমরা কনটেম্পট প্রসিডিংয়ের (আদালত অবমাননার) জন্য ব্যবস্থা নেবো, আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় শেখ হাসিনাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে (অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এ মামলায়। 

এফএইচ/কেএসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।