চার হত্যাসহ পাঁচ মামলায় আইভীর জামিন বহাল থাকবে কিনা—আদেশ ৩ মে
হত্যার অভিযোগে চারটিসহ পৃথক পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। জামিনের সেই আদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বহাল থাকবে কি না তা আগামী ৩ মে জানা যাবে।
ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর আদেশের জন্য আগামী ৩ মে দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আদেশের জন্য এই দিন ঠিক করেন।
ওই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা এবং অপরটি হচ্ছে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা। এই পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আইভীর জামিন প্রশ্নে রুল দিয়ে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
ওই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়।
আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তার শুনানি করেন। আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন (সাজু) ও আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান।
এর আগে, গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দমন-পীড়নের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পাঁচ মামলার মধ্যে যে চারটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, সেগুলো হলো—ফতুল্লা থানায় করা আবুল হোসেন মিজি, আব্দুর রহমান, মো. ইয়াছিন ও পারভেজ হত্যা মামলা। হামলা ও সরকারি কাজো বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অন্য মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়।
প্রথম পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দি সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এর পর শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়। এরমধ্যে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় পাঁচ মামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিনের পর আইভীকে আরও দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন করা দুটি (হত্যার অভিযোগ) মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরমধ্যে একটিতে গত ২ মার্চ ও অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
এফএইচ/এমএমকে