সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আ’লীগ নিয়ে আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থিদের অংশ নিতে না পারাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। বিএনপিপন্থিরা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের লিখিত আবেদন ও সাধারণ আইনজীবীদের আপত্তির কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
অন্যদিকে আওয়ামীপন্থিরা লিখিত বক্তব্যে জানায়, বারের গঠনতন্ত্র ও নিয়ম ভঙ্গ করে অ্যাডহক কমিটি যাচাই-বাছাই না করে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা অসাংবিধানিক ও ন্যায়বিচার পরিপন্থি।
আগামী ১৩ ও ১৪ মে সমিতির নির্বাচনের তারিখ ধার্য রয়েছে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলের সমর্থক আইনজীবীরা সুযোগ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে অনুষ্ঠিত সাধারণ সদস্যদের বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) রোববার ২৬ এপ্রিল আওয়ামীপন্থিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) যাচাই-বাচাইয়ে আওয়ামীপন্থিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ বিষয়ে বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে অ্যানেক্স কোর্ট ভবনের সামনে একটি প্রেস ব্রিফিং আহ্বান করেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। কিন্তু তারা সেখানে যাওয়ার আগেই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা একই স্থানে স্লোগান নিয়ে অবস্থান নেন। পরে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা গণমাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠান।
লিখিত বক্তব্যে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কেউ কোনো দলের বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দলবদ্ধ হয়ে কোনো মনোনয়ন দাখিল করেননি। বারের তথাকথিত বিশেষ সাধারণ সভার নোটিশ কোনো প্রার্থীকে না দিয়ে এডহক কমিটি মধ্যরাত মেসেজ দিয়ে পরদিন দুপুরে মনগড়া সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা অবৈধ ও নিন্দনীয়।’
তিনি বলেন, ‘উৎসবমুখর আমেজের মধ্যে দিয়ে আইনজীবী সমিতিতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়। কিন্তু বারের সংবিধান ও নিয়ম ভঙ্গ করে এবং সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপপ্রয়াস, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। অ্যাডহক কমিটি কর্তৃক নজিরবিহীন ও প্রহসনমূলক নির্বাচন সুপ্রিম কোর্টের বারের ৭৭ বছরের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
তিনি বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত বাতিল করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
অ্যানেক্স ভবনের সামনে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, জুলাইযোদ্ধাসহ অনেকে সুপ্রিম কোর্ট বারে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন, প্রেস ব্রিফিং করেছেন। তারা বলেছে যারাই ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচন করেছেন বা সমর্থন করেছেন; তাদের যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বারের বিশেষ সাধারণ সভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এফএইচ/এমআইএইচএস