সরকারি আইনি সহায়তায় আস্থা কম, সেবাগ্রহীতা এক শতাংশেরও নিচে
কিশোরগঞ্জের নিশি রানী যৌতুক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী পামেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। স্বামীর বিরুদ্ধে তার বহু অভিযোগ, তাই তিনি বিচ্ছেদ চান। জেলা আইনগত সহায়তা (লিগ্যাল এইড) কর্মকর্তা ধৈর্য নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। অতীতের স্মৃতি, একসঙ্গে কাটানো ছোট ছোট সুখের মুহূর্ত, পরিবারের ভবিষ্যৎ—সবকিছু সামনে এনে নিশিকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। পামেলের চোখে জল টলমল করছিল, কাঁপা কণ্ঠে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং নতুন করে শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর, বহু দ্বিধা-দ্বন্দ্বের পথ মাড়িয়ে ধীরে ধীরে মত পরিবর্তন করেন নিশি। এখন তার কণ্ঠে নেই আগের মতো কঠোরতা—ছিল একটুখানি আশার আলো। অবশেষে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষ আপস-মীমাংসার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। ঘরের ভেতর যেন এক অদৃশ্য স্বস্তির নিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। দুই পরিবারের সদস্যদের চোখে আনন্দের অশ্রু টলমল করছিল। বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে জোড়া লাগলো একটি সংসার ও সম্পর্ক।

এআই নির্মিত ছবি
অসহায়, দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে আইনগত সহায়তা প্রতিষ্ঠানের এমন কার্যক্রম থাকলেও গত দেড় দশকেও এর প্রতি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিচারপ্রার্থীর আস্থার প্রতিফলন ঘটেনি। ২০০৯ সাল থেকে গত মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন মানুষ নিশি ও পামেলের মতো লিগ্যাল এইডের সেবা নিয়েছে। দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৭৩ লাখ ধরলে শতকরা হিসেবে এ সংখ্যা ০ দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ, জনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম মানুষ গত ১৭ বছর তিন মাসে এই সরকারি আইনি সেবার আওতায় এসেছে। এ সময়ে আইনি সহায়তা দিয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিসহ ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৬১২টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে; এ হার বছরে গড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ১৩৯টিতে। মামলার পর্যালোচনায় এই চিত্র উঠে এসেছে।
গত ১৭ বছরে যে নগণ্য সংখ্যক মানুষ বিনামূল্যে সরকারি আইনি সহায়তা নিয়েছেন, তা আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের জন্য লজ্জাজনক। এ ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, অসহায় মানুষের পক্ষে সরকার মামলা পরিচালনা করে—এমন তথ্য ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।
আরও পড়ুন
লিগ্যাল এইডে ২ লাখেরও বেশি মামলার নিষ্পত্তি
১৭ বছরে ১৩৫৫৮৫ কারাবন্দিকে আইনি সহায়তা দিয়েছে লিগ্যাল এইড
লিগ্যাল এইড থেকে শ্রমিকদের ৪৪৬৫ মামলায় আইনি সহায়তা
পর্যবেক্ষকদের দাবি, বিচারাধীন মামলার পরিসংখ্যান বিবেচনায় এবং বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে সরকারি আইনি সহায়তার আওতায় আসা বিচারপ্রার্থীর সংখ্যা খুবই নগণ্য। এটি প্রমাণ করে লিগ্যাল এইডের প্রতি জনগণের তথা বিচারপ্রার্থীদের আস্থা নেই অথবা জনসাধারণ ব্যাপকভাবে এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানে না।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম মনির হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময়েও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিচারপ্রার্থী সরকারি আইনি সেবার আওতায় আসেনি, এই চিত্র হতাশাজনক। রাষ্ট্র এরকম একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছে, কিন্তু যাদের জন্য সৃষ্টি করা হলো, তারা সুবিধা নিতে পারছে না বা নিচ্ছে না। এটি প্রকারান্তরে আস্থার সংকটেরই চিত্র।
দীর্ঘ সময়েও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিচারপ্রার্থী সরকারি আইনি সেবার আওতায় আসেনি, এই চিত্র হতাশাজনক। রাষ্ট্র এরকম একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছে, কিন্তু যাদের জন্য সৃষ্টি করা হলো, তারা সুবিধা নিতে পারছে না বা নিচ্ছে না। এটি প্রকারান্তরে আস্থার সংকটেরই চিত্র।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিবীক্ষণ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে আমরা চেষ্টা করছি। ২০১৫ সালের আগে মূলত আইনি পরামর্শ ও আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে আইনি সহায়তা দেওয়া হতো, এ কারণে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কম ছিল। এরপর বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় মামলা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি বেড়েছে। জনবল বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ সরকারি আইনি সহায়তার আওতায় আসবে।

লিগ্যাল এইডের লোগো
সূত্রমতে, গত ১৭ বছর তিন মাসে পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮২ জন মানুষ লিগ্যাল এইড থেকে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেছে। ৩২১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে। সারা দেশের জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে ১১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ আইনি সুবিধা নিয়েছে। এক লাখ ৩৭ হাজার কারাবন্দি আইনি সহায়তা নিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রান্তিক আয়ের জনগোষ্ঠীকে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সরকার ২০০০ সালে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’ প্রণয়ন করে। আইনটি পাসের পরপরই সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। সারা দেশে সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব এই সংস্থার ওপর ন্যস্ত থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর অভাবে ২০০৯ সালের পূর্ব পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
২০০৯ সালে সংস্থাটিকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তীসময়েও কার্যক্রমের অগ্রগতি সীমিত পর্যায়ে রয়ে গেছে। এরই মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি এটি অধিদপ্তর হিসেবে উন্নীত হয়। এর অধীনে সারা দেশে ৩২৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
বর্তমানে প্রত্যেক জেলার আদালত প্রাঙ্গণে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস চালু রয়েছে। শ্রমিকদের জন্য আছে দুটি শ্রমিক সহায়তা কেন্দ্র। সর্বোচ্চ আদালতে সরকারি আইনি সেবা দিতে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও লিগ্যাল এইড কমিটি রয়েছে। চৌকি আদালত ও শ্রম আদালতে আছে বিশেষ কমিটি। আইনগত পরামর্শসহ তথ্য দিতে চালু রয়েছে জাতীয় হেল্পলাইন কলসেন্টার, টোলমুক্ত হটলাইন নম্বর ‘১৬৪৩০’। প্রতি বছর ২৮ এপ্রিল আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হয়। গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, লিফলেট বিতরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা, উঠান বৈঠক প্রভৃতির মাধ্যমে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রচারণা চালানো হয়।
আরও পড়ুন
আইনজীবীদের ১০ শতাংশ মামলা বিনামূল্যে পরিচালনার আইন করতে পারে সরকার
হেল্পলাইনের ‘১৬৪৩০’ নম্বরে আইনি সেবা পেয়েছেন প্রায় ২ লাখ ব্যক্তি
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোলায়মান তুষার বলেন, গত ১৭ বছরে যে নগণ্য সংখ্যক মানুষ বিনামূল্যে সরকারি আইনি সহায়তা নিয়েছে, তা আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের জন্য লজ্জাজনক। এ ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, অসহায় মানুষের পক্ষে সরকার মামলা পরিচালনা করে—এমন তথ্য ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে মানুষ জানেই না যে তার জন্য এরকম একটি প্রতিষ্ঠান বা কাঠামো রয়েছে।
আইনগত সহায়তা কী
আইনগত সহায়তার অর্থ—আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং বিচার পেতে অসমর্থ ব্যক্তিকে মামলা হওয়ার আগে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান এবং বিচারাধীন মামলায় আইনি সহায়তা দেওয়া। এক্ষেত্রে আইনজীবীর সম্মানী বা মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ বহন করে সরকার। কারও আর্থিক সামর্থ্য যাই হোক না কেন, সরকারি আইনগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তিনি আইনগত তথ্য ও পরামর্শ নিতে পারবেন কিংবা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির সেবা নিতে পারবেন।
আইনগত সহায়তা কারা পাবেন
আয়কর সীমার নিচে থাকা যে কোনো ব্যক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধা বা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শ্রমিককে আইনি সহায়তা দেবে সরকার। এছাড়া কর্মে অক্ষম, আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন ব্যক্তি; শিশু, মানবপাচারের শিকার, যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু, নিরাশ্রয় ব্যক্তি বা ভবঘুরে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যেকোনো ব্যক্তি বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাবেন। বয়স্ক ভাতা গ্রহীতা, পারিবারিক সহিংসতার শিকার বা ঝুঁকির মুখে থাকা ব্যক্তি, অ্যাসিডদগ্ধ নারী বা শিশু, অসচ্ছল বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ নারী, প্রতিবন্ধী, বিনা বিচারে আটক অসচ্ছল ব্যক্তি এবং আদালত কর্তৃক বিবেচিত আর্থিকভাবে অসহায় ব্যক্তিরাও এই সেবার আওতায় রয়েছেন।
লিগ্যাল এইড অফিসের সেবা
আইনগত পরামর্শ, মামলা করার আগে বিরোধ নিষ্পত্তি, বিচারাধীন মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ, ডিএনএ পরীক্ষার ব্যয় এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যয় পরিশোধ। স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে, সন্তানের অভিভাবকত্ব, ভরণপোষণ ও দেনমোহর আদায়, বিবাহ বিচ্ছেদ, শারীরিক নির্যাতন, যৌতুক, অ্যাসিড নিক্ষেপ, পাচার, অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আইনি সেবা দেয়। আইনগত পরামর্শের পাশাপাশি মামলা দায়ের ও পরিচালনা এবং মামলার গুণাগুণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়ে সহায়তা করে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস।
সীমিত জনবল নিয়ে আমরা চেষ্টা করছি। ২০১৫ সালের আগে মূলত আইনি পরামর্শ ও আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে আইনি সহায়তা দেওয়া হতো, এ কারণে সুবিধাভোগীর সংখ্যা কম ছিল। এরপর বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় মামলা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি বেড়েছে। জনবল বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ সরকারি আইনি সহায়তার আওতায় আসবে।
দিলারা খাতুনের কান্নার অবসান
তখন করোনাকাল। সংক্রমণ রোধে সরকার দেশের সব অফিস-আদালতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তখনও চালু ছিল আইনগত সহায়তার জাতীয় হেল্পলাইন। সেখানে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা থেকে একটি ফোন আসে। দিলারা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক। তিনি বলেন, ‘এক মাস আগে জামিন পেলেও আমার ছেলে কারাগার থেকে বের হতে পারছে না; সে অসুস্থ, তার চিন্তায় আমি দিশাহারা।’
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় হেল্পলাইন কার্যক্রম পরিবীক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন তাৎক্ষণিকভাবে হবিগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে এবং সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ মার্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও পরোয়ানায় করণিক ভুলের কারণে ওই কিশোরের মামলার নম্বর ভুল হয়েছিল। এই কারণে তার মুক্তি মেলেনি। পরে বিষয়টি সংশোধন করা হয়। জামিনের এক মাস পরে কলসেন্টারের সহায়তায় সে কারামুক্ত হয়।
আইনি সহায়তার আশা আলী হোসেনের
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে পরামর্শ ও মামলার অগ্রগতি জানতে এসেছিলেন কেরানীগঞ্জের চুনকুঠি এলাকার আলী হোসেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) তার সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। তিনি জানান, ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে এখানে এসেছেন। মামলায় খরচ বা আইনজীবী নিয়োগে তাকে কোনো টাকা দিতে হয়নি।
নিজের মামলা সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তার বিরুদ্ধে আপন ভাই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে মামলা করেন। তিনি চান, আমি যেন তার কাছে না থাকি। সে কারণে জমি দখলের উদ্দেশ্যে দেওয়ানি আদালতে নিষেধাজ্ঞা মামলা করেছে। আমার এক মেয়ে, আর তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ভাইটি অসুস্থ। তিনি মনে করেন, আমি যেন জমিটি বিক্রি করতে না পারি—এজন্যই মামলা করেছেন।
আলী হোসেন বলেন, আমার টাকা নেই। একজন পরামর্শ দেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যেতে। জজকোর্টে ভাই দুবার হেরে গেছেন। এখন হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেছেন। আমি লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আইনজীবী নিয়োগ করেছি—প্রায় ছয় মাস হলো। আজ মামলার অগ্রগতি জানতে এসেছি।
সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি
স্বল্প জনবল এবং কম খরচে আইনি সেবা নিয়ে মানুষ সন্তুষ্ট কি না—এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসার, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. ইমতিয়াজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, লিগ্যাল এইড অফিস থেকে আমরা দুই ধরনের সেবা দিচ্ছি। একটি হলো আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া। দেওয়ানি, রিটসহ বিভিন্ন ধরনের মামলার প্রয়োজন অনুযায়ী মামলা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়। পরে আইনজীবীরা বিল পেশ করলে সরকারের তহবিল থেকে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়। অন্যটি হলো আইনগত পরামর্শ দেওয়া। এই পরামর্শ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত এবং বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
কোনো ব্যক্তি মামলা বা অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে এলে নথিপত্র দেখে আমরা পরামর্শ দেই। যদি দেখা যায় মামলায় হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তখন তা জানানো হয়। এতে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারেন। কেউ পরামর্শ মেনে চলেন, আবার কেউ না মেনে মামলা করেন। পরে দীর্ঘ সময় পর হেরে গিয়ে অনেকে বুঝতে পারেন যে সিদ্ধান্তটি ঠিক হয়নি।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় লিগ্যাল এইড অফিস রয়েছে। এর বাইরে সুপ্রিম কোর্টেও একটি লিগ্যাল এইড অফিস আছে। জেলা পর্যায়ে আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা জোরদার থাকলেও সুপ্রিম কোর্টে তা নেই। তবে এখানে বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়, যা জেলা পর্যায়েও চালু রয়েছে।
লিগ্যাল এইড সেবা নিয়ে মানুষের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি মামলা বা অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে এলে নথিপত্র দেখে পরামর্শ দেই। যদি দেখা যায় মামলায় হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তখন তা জানানো হয়। এতে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারেন। কেউ পরামর্শ মেনে চলেন, আবার কেউ না মেনে মামলা করেন। পরে দীর্ঘ সময় পর হেরে গিয়ে অনেকে বুঝতে পারেন যে সিদ্ধান্তটি ঠিক হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এমন অনেক মামলাও রয়েছে, যা পারিবারিক আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য হলেও হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। যেমন—ভরণপোষণের একটি ছোট বিষয় নিয়েও উচ্চ আদালতে মামলা হয়। এতে বিচারপ্রার্থীরা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় ও শ্রম নষ্ট করেন এবং অসন্তুষ্ট হন।
এফএইচ/এসএইচএস