সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত, কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয়ে ফেরত
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
আরেকটি পৃথক আদেশে এই কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল। এর আগের দিন ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছিল। এর মানে এই সচিবালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে ১০ এপ্রিল থেকে। অর্থাৎ যেদিন সংসদে অধ্যাদেশ রহিত হলো, তার পরদিন থেকে এর কার্যক্রম বন্ধ।
মন্ত্রণালয়ে ফেরতে নিতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নিম্ন বর্ণিত সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো। প্রজ্ঞাপনে ছক করে কর্মকর্তাদের নাম, বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাবেক পদ এবং সংযুক্ত পদ উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯ মে এটি জারি হলেও ১০ এপ্রিল থেকে এর ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে।
অপরদিকে অফিস আদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রজ্ঞাপনমূলে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নিম্ন বর্ণিত সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো। তদনুসারে তাদের দাখিল করা যোগদানপত্র ১০ এপ্রিল থেকে ভূতাপেক্ষভাবে গ্রহণ করা হলো।
এর আগে সাত আইনজীবীর করা একটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। বিরোধীদলের আপত্তি নাকচ করে ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বৈধতা নিয়ে সাত আইনজীবী ১৯ এপ্রিল আরেকটি রিট করলেন। রিটের আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে বিচারাধীন অবস্থায় গত বছরের ১১ ডিসেম্বর হতে শুরু হওয়া সচিবালয়ের কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।
২০ এপ্রিল হাইকোর্টে রিটের শুনানি হয়। রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানির পরে সেদিন শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে আপিল করবে। আদালতের প্রত্যাশা ইন দ্য মিন টাইম সচিবালয়ের যে স্থাপনা আছে, সেগুলোকে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে যেন সরিয়ে ফেলা না হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তিনি আদালতের প্রত্যাশা শুনেছেন এবং এটি সরকারকে অবগত করবেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে বলেছি আগের মামলা যেহেতু আপিল বিভাগে আপিল দায়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, সুতরাং ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর শুনানি সমীচীন হবে কি না। আমরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শিগগির আপিল করবো।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ আজও আপিল করেনি।
এফএইচ/ইএ