ব্যারিস্টার মইনুলকে বিদেশ যেতে বাধা না দেয়ার আদেশ আপিলে বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৫ পিএম, ১১ মার্চ ২০১৯
ফাইল ছবি

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমনে বাধা না দিতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নামঞ্জুর করে সোমবার (১১ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ব্যারিস্টার মইনুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আপিল বিভাগের শুনানিতে খন্দকার মাহবুব বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিরোধী দল এবং সরকারের বিরাগভাজন ব্যক্তিদের অযথা হয়রানির জন্য, উপরের নির্দেশের কথা বলে দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে বসিয়ে হয়রানি করা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সম্মানিত নাগরিকদের সম্মানহানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে। এটা বন্ধ করা আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন, গত ৩ মার্চ হাইকোর্টের এক ডিভিশন বেঞ্চ মইনুল হোসেনকে বিদেশ গমনে বাধা না দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে বিদেশ গমনে বাধা দেয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

ওই আদেশের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করেন। ১০ মার্চ চেম্বার আদালত ওই আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়।

গত ২ মার্চ ব্যারিস্টার মইনুল স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবেশ করলে, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট নিয়ে যান এবং অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বলা হয়, অনেক মামলার আসামি হওয়ায় তাকে বিদেশ গমনের অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়।

খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে যে মামলার কথা বলা হয়েছে, তার সব মামলায় তিনি জামিনে আছেন। বেআইনিভাবে করায় অনেক মামলা ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত স্থগিত করেছেন। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বেআইনিভাবে চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমনে বাধা দেয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো নাগরিকের বিদেশে যাওয়া এবং দেশে প্রবেশ করা মৌলিক অধিকার।

এফএইচ/এমএসএইচ/জেআইএম