শিশু অপহরণ : দুজনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ১৬ মে ২০১৯
ফাইল ছবি

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার আবির নামে এক শিশুকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে করা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-৭ এর বিচারক খাদেম উল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পেশকার মতিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- মশিউর রহমান মন্টু (৪০) ও মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বর (৩৫)। তাদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. রেজাউল করিম (৩৬), নজরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে আব্দুল্লাহ (৩৮), ইকবাল হোসেন শুভ (২৮), সজীব আহম্মেদ কামাল উদ্দিন (৪৭), মো. আলিম হোসেন চন্দন চঞ্চল (২৭), কাউছার মৃধা (২৫), ও মো. রেজা মৃধা (৩০)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার করে টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া আদালত তাদের খালাস দেন। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জহিরুদ্দিন মো. বাবর ও শাহ মো. অলিউল্লাহ।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ মে শিশু আবির উত্তরার এক মাদরাসা থেকে প্রাইভেটকারে কাফরুল বাসায় আসছিল। তার সঙ্গে গাড়িচালক জাহিদ ও বাড়ির কেয়ারটেকার আবু বক্কর ছিলেন। তাদের গাড়িটি বনানী স্টাফ রোড পৌঁছালে আসামিরা তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে তাদের গাড়ি থেকে বের করে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে উত্তরার দিকে নিয়ে যায়। একটু পরই পথের মধ্যে গাড়িচালক জাহিদ ও কেয়ারটেকার আবু বক্করকে নামিয়ে দিয়ে আবিরকে নিয়ে চলে যায়।

পরবর্তীতে আসামিরা আবিরের বাবার কাছে ১০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তাদের কথা অনুযায়ী আসামিদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে দুই কোটি টাকা জমা দেন আবিরের বাবা।

পরবর্তীতে বিষয়টি তারা র‌্যাবকে জানায়। র‌্যাব কুর্মিটোলা সরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে আবিরকে উদ্ধার করে এবং আসামিদের গ্রেফতারসহ তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১৭ মে শিশু আবিরের মামা এনায়েত উল্লাহ বাদী হয়ে ক্যান্টেমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন।

এরপর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন হাওলাদার একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলাটিতে মোট ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৩০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

জেএ/এসএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :