উচ্চ রক্তচাপ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও উত্তেজনা ডেকে আনতে পারে বিপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সারাদেশ এই মুহূর্তে প্রচণ্ড উত্তেজনাময় একটি সময় পার করছে। অবশ্য যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কারণেই। সারাদিনের নির্বাচনের ফলাফল কী হবে? এই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আর আশঙ্কার ঝড় বইছে অনলাইন ও অফলাইনে।

তবে চিন্তার বিষয় হলো - সব মানুষের দুশ্চিন্তা ও উত্তেজনা নেওয়ার ক্ষমতা সমান হয় না। কারণ হঠাৎ রাগ, ভয়, দুশ্চিন্তা বা তীব্র উত্তেজনা - এই অনুভূতিগুলো কেবল মানসিক নয়, শারীরিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি করে।

বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) আছে বা বয়স বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই আবেগজনিত প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো - কেন এমন হয়, আর তখন কী করা উচিত?

কেন দুশ্চিন্তা রক্তচাপ বাড়ায়?

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ তৈরি হলে শরীর ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়ায় যায়। অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। এর ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয় ও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়ে।

সুস্থ মানুষের শরীরে এই পরিবর্তন অল্প সময়ের। কিন্তু দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ বা ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে এই সাময়িক বৃদ্ধি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়ায় হঠাৎ চাপ বৃদ্ধিতে মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়, এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

>> দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের রোগী

>> হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি

>> ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ

>> অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকা ব্যক্তি

এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন?

হঠাৎ যদি মনে হয় রক্তচাপ বেড়ে গেছে, প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি সামলানো জরুরি। জেনে নিন কী করবেন -

১. বসুন ও শ্বাস ধীর করুন
চেয়ার বা বিছানায় সোজা হয়ে বসুন। ৪ সেকেন্ডে শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন, ৬–৮ সেকেন্ডে ছাড়ুন। কয়েক মিনিট এভাবে করলে সিমপ্যাথেটিক সিস্টেমের উত্তেজনা কমে।

২. রক্তচাপ মাপুন
বাড়িতে রক্তচাপ মাপার মেশিন থাকলে পাঁচ মিনিট বিশ্রামের পর মাপুন। হাত হৃদপিণ্ডের সমতলে রাখুন।

৩. পানি পান করুন
হালকা ডিহাইড্রেশনও চাপ বাড়াতে পারে। ধীরে ধীরে এক গ্লাস পানি পান করুন।

৪. কথা বলা বা হাঁটা এড়িয়ে বিশ্রাম নিন
চাপ বেশি থাকলে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বা দ্রুত হাঁটা এড়িয়ে চলুন। শান্ত পরিবেশে ১৫–২০ মিনিট বিশ্রাম নিন।

৫. নির্ধারিত ওষুধ মিস করবেন না
ডাক্তারের দেওয়া নিয়মিত ওষুধ সময়মতো গ্রহণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত ডোজ নিজে থেকে নেবেন না।

৬. বিপজ্জনক লক্ষণ থাকলে জরুরি চিকিৎসা নিন
যদি বুকব্যথা, তীব্র মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে, তা হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

গবেষণা বলছে, বারবার মানসিক চাপ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই কেবল ওষুধ নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চ রক্তচাপ মানেই সারাক্ষণ ভয় নয়। বরং সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণই ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পথ।

সূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এএমপি/এমএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।