‘উইঘুরদের রোজা রাখা ও নামাজ পড়তে বাধা দেয়া ধর্মীয় অধিকারের লঙ্ঘন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ১৬ মে ২০১৯

অন্যায়ভাবে উইঘুর মুসলমানদের ধর্মীয় কাজ রমজানে রোজা রাখা, তারাবিহর নামাজ পড়া, মসজিদে যেতে বাধা প্রদান মানবাধিকার ও ধর্মীয় অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গিয়াস উদ্দিন।

আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন “ভয়েস অব ল’ ইয়ার অব দ্য বাংলাদেশ” এর পক্ষে মানববন্ধনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। গণচীনের জিনজিয়াং প্রদেশে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মুসলমানদের রমজানে সেহরি খাওয়া, রোজা রাখা এবং তারাবিহ নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে সংগঠনটি প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করে।

অ্যাডভোকেট মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ৯২ ভাগ মুসলমান-অধ্যুষিত বাংলাদেশ সরকারের আমাদের আহ্বান অনতিবিলম্বে চীনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর প্রতিবাদ করুন। অন্যথায় বাংলাদেশের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আগামীতে চীনের দূতাবাস ঘেরাও করে এর প্রতিবাদ করবে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামানের সঞ্চালনায় সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, চীনের উইঘুর মুসলমানদের ওপর ধর্মীয় কাজে বাধা প্রদানের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, উইঘুরদের মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে বাধা এবং তাদের ওপর নির্যাতন এক জঘন্য অপরাধ। এর প্রতিবাদ করা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।

সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুর রহমান, শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।

মানববন্ধনে চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর এ নির্যাতনকে ‘মানবতার জন্য লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। একই সঙ্গে, জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের রমজান মাসে আটকে রাখা, বন্দীশিবির বন্ধ করা এবং আটক মুসলমানদের মুক্ত দেয়ার দাবি জানান তারা।

উইঘুর বন্দীশিবিরে আটকদের বেশিরভাগই তুর্কীর অধিবাসী। এর আগে উইঘুরদের শিবিরে প্রবেশে অধিকার চেয়েছিল জাতিসংঘ। তবে, চীন উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক একটি কমিটি ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে জানতে পারে, চীন সরকার উইঘুরদের স্বায়ত্তশাসিত এলাকাকে মূলত একটি বন্দীশিবিরে পরিণত করেছে। সেখানে ২০ লাখের মতো মানুষকে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

এফএইচ/এসআর/পিআর