সন্ত্রাসী জুলহাসের তথ্য জানতে ভোলার এসপিকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৩ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৯

সন্ত্রাসী জুলহাস মিয়া জীবিত না মৃত- এ বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিবেদন না দেয়ার ব্যাখ্যা জানাতে ভোলা জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২০ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

‘অশীতিপর রাবেয়া’ আদালতের বারান্দায় আর কত ঘুরবেন তিনি’ শিরোনামে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আশরাফুল আলম নোবেল।

ওই রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে আসামি জুলহাস মিয়া বেঁচে আছেন নাকি, মারা গেছেন- সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও ভোলার এসপিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

আদালতে বুধবার রাবেয়া খাতুনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আশরাফুল আলম নোবেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল।

রাবেয়া খাতুনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আশরাফুল আলম নোবেল পরে সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর তেজগাঁও থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি জুলহাস মিয়া বেঁচে আছে কি-না, সে বিষয়ে যথাযথভাবে প্রতিবেদন দাখিল না করায় ভোলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) তলব করেছেন হাইকোর্ট।

এর আগে, জুলহাস মিয়া মারা গেছেন কি-না, সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও ভোলার এসপিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ডিএমপি কমিশনার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু ভোলার এসপি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি বিচারপতির নামে চিঠি দিয়ে জুলহাসের বিষয়ে অবহিত করেন। ওই চিঠি দেখে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাকে তলব করেন।

এদিকে ডিএমপি কমিশনারের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলহাস ১০ থেকে ১২ বছর আগে পরিবার নিয়ে ভোলায় চলে যান। ভোলার এসপির দেয়া চিঠিতে বলা হয়, ভোলায় জুলহাস নামে কোনো ব্যক্তি নেই এবং তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ওই প্রতিবেদন দেখে আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল বলেন, ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর তেজগাঁওয়ের তেস্তুরি বাজারে জুলহাসকে দুস্কৃতিকারীরা হত্যা করে। ওই ঘটনায় জুলহাসের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অথচ পুলিশ পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন দিয়েছে।

অবৈধ অস্ত্র ও গুলিসহ তেজগাঁও থানার গার্ডেন রোডের একটি বাসা থেকে রাবেয়া খাতুনকে ২০০২ সালের ২ জুন গ্রেফতার করে পুলিশ। সেদিনই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় রাবেয়ার জামাতা জুলহাস ও অপর এক ব্যক্তি মাসুদকে আসামি করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়। এর প্রায় ছয় মাস পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর রাবেয়া খাতুন ও জুলহাসের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ওই মামলায় ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

মামলার বিচার দীর্ঘ ১৬ বছরেও সম্পন্ন না হওয়ায় এ নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘অশীতিপর রাবেয়া’ আদালতের বারান্দায় আর কত ঘুরবেন তিনি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আশরাফুল আলম নোবেল।

এফএইচ/এমএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :