গণমাধ্যমের খবরেই জানতে পারি কোথায় কী হচ্ছে: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

সমাজের কোনায় কোনায় কোথায় কী ধরনের ন্যায়-অন্যায় হচ্ছে, গণমাধ্যমে সেগুলো তুলে ধরায় সবাই জানতে পারি বলে মন্তব্য করেছেন উচ্চ আদালত।

সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে আদালত বলেন, সমাজে কী কী অসঙ্গতি হয়, সেটা তুলে ধরাই সাংবাদিকদের কাজ। তারা একটি ইস্যু তুলে ধরে বলেই আমরা জানতে পারি। সমাজের কোনায় কোনায় কত ধরনের ন্যায়-অন্যায় হচ্ছে, পত্রিকায় সেগুলো তুলে ধরা হয় বলে আমরা সব জানতে পারি।

চড়া সুদে ঋণদানকারী স্থানীয় মহাজনদের দাদন ব্যবসা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যম সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

এদিন মাইক্রোক্রেডিটের (ক্ষুদ্রঋণ) নামে সারাদেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করার পাশাপাশি রুল জারি ও নির্দেশনাও দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক।

পরে আদালত অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশনা দেন।

একইসঙ্গে তদন্তকালীন কোনো অননুমোদিত বা লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক সেগুলো বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আদালত।

এছাড়া চড়া সুদে ঋণদানকারী স্থানীয় মহাজনদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আদেশের আগে রিট আবেদনের বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে সতর্কও করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্ট আইনজীবী সুমনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ভবিষ্যতে যখন কোনো ইস্যু নিয়ে আসবেন, তা চিন্তা করে গবেষণা করে নিয়ে আসবেন। আপনারা যে বিষয়গুলো নিয়ে আসেন, তা নিয়ে গভীর চিন্তা করতে হবে। অবশ্যই এটি একটা ইস্যু। এটি একটি পাবলিক ইস্যু।

সুদ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিষয়ে আদালত বলেন, পত্রিকায় একটি তথ্য দিয়েছে। পত্রিকা একটা আলো দেখিয়েছে। একটা পথ দেখিয়েছে।

রিটকারী আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আদালত আরও বলেছেন, পত্রিকার নাম উল্লেখ করে (প্রথম আলো বা ডেইলি স্টার) একটা লাইন লিখে দিলে সেটা ধরেই অবৈধ ঘোষণা করতে হবে? এভাবে হয় না। এ ধরনের ইস্যু ধরে কম করে হলেও তিন-চার মাস কাজ করা উচিত। গবেষণা করে প্রোপারলি আবেদন করবেন। হুট করে নয়, দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে আবেদন করবেন। যাতে আমরা আদেশ দিতে পারি।

এফএইচ/এমকেআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]